Pages

বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৩

বাংলা উপন্যাস

 বাংলা উপন্যাস: লালসালু                 


উপন্যাস: লালসালু [সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ]. 

০১. কী মিঞা তোমার দিলে কি ময়লা আছে?’- ‘লালসালুউপন্যাসে উক্তিটি কার[চবি ২০১৮-১৯].  উত্তর: মজিদের 
০২. লালসালুউপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ ‘Tree without Roots'- নামক গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছিল কোন প্রকাশনী কর্তৃক[বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব: ২০১৭-১৮].   উত্তর: Editions du Seuil. 
০৩. ‘সে-মুখ ফ্যাকাশে, রক্তশূন্য এবং সে-মুখে দুনিয়ার ছায়া নেই।’- ‘লালসালুউপন্যাসে কার সম্পর্কে কথাটি বলা হয়েছে [GST ‘B’ 2023-2024] 
        উত্তর: আমেনা বিবি
০৪. ‘ওটা ছিল নিশানা, আনন্দের আর সুখের।’-এই নিশানাটি কী? [GST ‘B’ 2023-2024] উত্তর: তালগাছ। 
০৫.  জমিতে বীজ বপন এবং ফসল কাটার উপযুক্ত সময়কে বলে- [GST ‘B’ 2023-2024] উত্তর: বতোর। 
০৬.   ‘দু-পা এগিয়ে ওধারে তাকিয়ে সে বলে, বিবি, শিলাবৃষ্টি শুরু হইছে!’-এই উক্তির নেপথ্যে মজিদের কোন বোধ কাজ করেছে[GST ‘B’ 2023-2024] উত্তর: ভয়:  (ক) আনন্দ   (খ) সাহস   (গ) ভয়    (ঘ) বিস্ময়
০৭.   ‘লালসালু’ উপন্যাসে ঝড় এলে হৈ চৈ করা অভ্যাস কার? 
        উত্তর: হাসুনির মায়ের।
০৮.  খ্যাংটা বুড়ির বিলাপ শুনে মন খারাপ হয়েছিল কার? উত্তর: জমিলার।
০৯.   ‘চাঁদের অমাবস্যা’ উপন্যাসটি রচয়িতা কে? উত্তর: সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
১০.   ‘সে যেন খাঁচায় ধরা পড়েছে।’ লালসালু উপন্যাসে যার সম্পর্কে এ কথা বলা হয়েছে? উত্তর: জমিলার।
১১.   আমেনা বিবি মাজারের মধ্যে মূর্ছা গিয়েছিল কেন? 
        উত্তর: শারীরিক দুর্বলতার কারণে।
১২.   হাসুনির মা মজিদের কাছে যায় কেন? উত্তর: নালিশ করতে।
১৩.  মজিদ পূর্বে বাস করত- উত্তর: গারো পাহাড়ে।
১৪.   জমিলাকে দেখে রহিমার মধ্যে কি জেগে উঠেছিল? উত্তর: মাতৃস্নেহ।
১৫.   মজিদের যশ ও খ্যাতির উৎস কোনটি? উত্তর: মাজার।
১৬.   মজিদের প্রতি রহিমার অচঞ্চল আস্থা যার সঙ্গে তুল্য হয়েছে? 
        উত্তর: ধ্রুবতারা।
১৭.   ‘বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখ’- লালসালু উপন্যাসে গ্রামবাসী সম্পর্কে লেখকের এই মন্তব্যের তাৎপর্য কি? 
        উত্তর: বিশ্বাস ও যুক্তির দ্বান্দ্বিকতা।
১৮.   ‘সুড়ঙ্গ’ নাটকটি কার লেখা? উত্তর: সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
১৯.   ‘লালসালু’ উপন্যাসে ঢেঙা বুড়ো কার কথায় বিভ্রান্ত হয়? উত্তর: মজিদের।
২০.   মাজারের পাশে দাঁড়িয়ে রহিমা কার জন্য শক্তি প্রার্থনা করে? উত্তর: হাসুনির মার জন্য।

০১.   উত্তরদিকে খানিকটা এগিয়ে মজিদ কোন গ্রামে যায়? 

        উত্তর: মহব্বতনগরে।

০২.   মহব্বতনগরে মজিদের প্রবেশটা কেমন ছিল? উত্তর: নাটকীয়।

০৩.  কোচ বিদ্ধ হয়ে নিহত হয় কে? উত্তর: ছমিরুদ্দিন।

০৪.   ‘কলমা জানো মিঞা’ মজিদ কাকে এ কথা জিজ্ঞেস করেছিল? 

        উত্তর: সাত ছেলের বাপ দুদু মিয়াকে।

০৫.   ‘কলমা জানস না ব্যাটা’? উক্তিটি কার উত্তর: খালেক ব্যাপারীর

০৬.   ‘শরীলে রং ধরছে ক্যান, নিকা করবি নাকি?’ উক্তিটির কার? 

        উত্তর: তাহেরের।

০৭.   আওয়ালপুর পীরের প্রধান মুরিদের নাম কী? উত্তর: মতলুব খাঁ

০৮.   মজিদের বিবি রহিমার কত প্যাচ? উত্তর: চৌদ্দ প্যাচ।

০৯.   ‘সোহবতে সোয়ালে তুরা সোয়ালে কুনাদ’ অর্থ কী? 

        উত্তর: সুসঙ্গ মানুষকে ভালো করে।

১০.   ‘তোমার দাড়ি কই মিঞা’। উক্তিটি কে কাকে করেছে? 

        উত্তর: মজিদ আক্কাসকে।

১১.   ‘শত্রুর আভাস পাওয়া হরিণের চোখের মত সর্তক হয়ে ওঠে কার চোখ’? 

        উত্তর: জমিলার।

১২.   ইউনিয়ন বোর্ডের প্র্রেসিডেন্টের নাম কী? উত্তর: মতলুব খাঁ।

১৩.  মজিদকে প্রথম দেখে জমিলার কী মনে হয়েছিল? উত্তর: বরের বাবা।

১৪.   খালেক ব্যাপারী দ্বিতীয়া স্ত্রীর নাম কী? উত্তর: তানু বিবি।

১৫.   ধলা মিয়া কার ভাই? উত্তর: খালেক ব্যাপারী দ্বিতীয় স্ত্রী বিবির ভাই।

১৬.   ‘মরা মানুষ জিন্দা হয় কেমনে’ উক্তিটি কার? উত্তর: মজিদের।

১৭.   নিরাক পড়া শব্দের অর্থ কী? 

        উত্তর: বাতাসহীন স্তব্ধ গুমোট আবহাওয়া।

১৮.   মজিদকে সবাই কি বলে সম্বোধন করে? উত্তর: মিঞা।

১৯.   মতিগঞ্জের সড়কটা দিয়ে দলে-দলে লোক কোনদিকে চলছে? 

        উত্তর দিকে।

২০.   ‘হুড়কা’ শব্দের অর্থ কী? উত্তর: খিল।

০১.   তাহের আর কাদের মজিদকে প্রথম কোথায় দেখেছিল? 

        উত্তর: মতিগঞ্জের সড়কে।

০২.   আক্কাস গ্রামে কী প্রতিষ্ঠা করতে চেয়ে ছিল? উত্তর: স্কুল প্রতিষ্ঠা।

০৩.  কে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়? উত্তর: খেতানির মা।

০৪.   কত বছর বয়সে আমেনা বিবির জন্ম হয়েছিল? 

        উত্তর: তের বছর বয়সে।

০৫.   কাদেরের ছোট ভাইয়ের নাম কী? উত্তর: রতন।

০৬.   ‘কুত্তা তোমাকে কামড়ালে তুমিও কি উলটো তাকে কামড়ে দেবে?’ এটি কার উক্তি? উত্তর: আওয়ালপুরের পির সাহেবের উক্তি।

০৭.   ‘বতোর দিন’ শব্দের অর্থ কী? উত্তর: জমিতে বীজ বপন বা ফসল বোনার এবং ফসল কাটার উপযুক্ত সময়।

০৮.   মজিদের প্রতি রহিমার অচঞ্চল আস্থা যার সঙ্গে তুল্য হয়েছে? 

        উত্তর: ধ্রবতারা।

০৯.   ‘বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখ’ ‘লালসালু’ উপন্যাসে গ্রামবাসী সম্পর্কে লেখকের এ মন্তব্যের তাৎপয- 

            উত্তর: আত্মবিধ্বংসী ধর্মান্ধতা।

১০.   ‘প্রশ্নটি এই রকম যে মজিদের ইচ্ছা হয় একটা হুঙ্কার ছাড়ে’। মজিদের ক্ষোভ যার আচরণের প্রতিক্রিয়া- উত্তর: জমিলা।

১১.   ‘ধান দিয়া কি হইব, মানুষের জান যদি না থাকে।’ উক্তিটি কার? 

        উত্তর: রহিমার।

১২.   ‘তুমি কী মনে করো মিয়া? তুমি কী মনে করো তোমার বিবি মিছা বদনাম করে? তুমি হলফ কইরা বলতে পারো তোমার দিলে ময়লা নাই? উক্তিটি কার? 

    উত্তর: মজিদের।

১৩.  আক্কাসের বাবার নাম কী? উত্তর: মোদাবেবর।

১৪.   মজিদ কার চোখে ভয় দেখেছে? উত্তর: রহিমার।

১৫.   মহববতনগর গ্রামে মজিদকে প্রথম দেখেছিল কে? 

        উত্তর: তাহের ও কাদের।

১৬.   মজিদ বুড়াকে মাজারে কয় পয়সার সিন্নি দিতে বলেছে? 

        উত্তর: পাঁচপয়সার।

১৭.   মজিদ পূর্বে কোথায় বাস করত? উত্তর: গারো পাহাড়ে।

১৮.   সে যেন খাঁচায় ধরা পড়েছে- ‘লালসালু’ উপন্যাসে কার ধরা পড়ার কথা বলা হয়েছে?

         উত্তর: জমিলার।

১৯.   রহিমার কাছে নিজের মৃত্যু কামনা করে কে? উত্তর: হাসুনির মা।

২০.   ঝড়ের সময় ঢেঙা বুড়ো কী খেতে চেয়েছিল? উত্তর: চিঁড়া। 

লালসালু-সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

        শস্যহীন জনবহুল এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের বেরিয়ে পড়বার ব্যাকুলতা ধোঁয়াটে আকাশকে পযর্ন্ত যেন সদাসন্ত্রস্ত করে রাখে। ঘরে কিছু নেই। ভাগাভাগি, লুটালুটি, আর স্থানবিশেষে খুনাখুনি করে সর্বপ্রচেষ্টার শেষ। দৃষ্টি বাইরের পানে, মস্ত নদীটির ওপারে, জেলার বাইরে-প্রদেশেরও; হয়ত-বা আরও দূরে। যারা নলি বানিয়ে ভেসে পড়ে তাদের দৃষ্টি দিগন্তে আটকায় না। জ্বালাময়ী আশা; ঘরে হা-শূন্য মুখ থোবড়ানো নিরাশা বলে তাতে মাত্রাতিরিক্ত প্রখরতা। দূরে তাকিয়ে যাদের চোখে আশা জ্বলে তাদের আর তর সয় না, দিন-মান-ক্ষণের সবুর ফাঁসির শামিল। তাই তারা ছোটে, ছোটে।

    অন্য অঞ্চল থেকে গভীর রাতে যখন ঝিমধরা রেলগাড়ি সর্পিল গতিতে এসে পৌঁছোয় এ-দেশে তখন হঠাৎ আগাগোড়া তার দীর্ঘ দেহে ঝাঁকুনি লাগে, ঝনঝন করে ওঠে লোহালক্কড়। রাতের অন্ধকারে লন্ঠন জ্বালানো ঘুমন্ত কত স্টেশন পেরিয়ে এসে এইখানে নিদ্রাচ্ছন্ন ট্রেনটির সমস্ত চেতনা জেগে সজারুকাঁটা হয়ে ওঠে। তা ছাড়া এদের বহির্মুখ উন্মত্ততা আগুনের হল্কার মতো পুড়িয়ে দেয় দেহ। গেলগাড়ির খুপরিগুলো থেকে আচমকা জেগে-ওঠা যাত্রীরা কেউ-বা ভয় পেয়ে কেউ-বা অপরিসীম কৌতূহলে মুখ বাড়ায়, দেখে আবছা-অন্ধকারে ছুটোছুটি করতে থাকা লোকদের। কোথায় যাবে তারা? কিসের এত উন্মত্ততা, কিসের এত অধীরতা? এ লাইনে যারা নতুন তারা চেয়ে চেয়ে দেখে। কিন্তু এরা ছোটে। ছোটে আর চিৎকার করে। গাড়ির এ-মাথা থেকে ও-মাথা। এতগুলো খুপরির মধ্যে কোনটাতে চড়লে কপাল ফাটবে-তাই যেন খুঁজে দেখে। ইতিমধ্যে আত্মীয়-স্বজন, জানপছানের লোক হারিয়ে যায়। কারও জামা ছেঁড়ে, কারও টুপিটা অন্যের পায়ের তলায় দুমড়ে যায়। কারও বা আসল জিনিসটা, অর্থাৎ বদনাটা-যা না হলে বিদেশে এক পা চলে না-কী করে আলগোছে হারিয়ে যায়। হারাবে না কেন? দেহটা গেলেই হয়-এমন একটা মনোভাব নিয়ে ছুটোছুটি করলে হারাবেই তো। অনেকের অনেক সময় গলায় ঝোলানো তাবিজের থোকাটা ছাড়া দেহে বিন্দুমাত্র বস্ত্র থাকে না শেষ পযর্ন্ত। তারা অবশ্য বয়সে ছোকড়া। বয়স হলে এরা আর কিছু না হোক শক্ত করে গিরেটা দিতে শেখে। 

     অজগরের মতো দীর্ঘ রেলগাড়ির কিন্তু ধৈর্যের সীমা নেই। তার দেহ ঝনঝন করে লোহালক্কড়ের ঝংকারে, উত্তাপলাগা দেহ কেঁপে ওঠে, কিন্তু হঠাৎ ওঠে ছুটে পালায় না। দেহচ্যুত হয়ে অদূরে অস্পষ্ট আলোয় ইঞ্জিনটা পানি খায়। পানি খায় ঠিক মানুষের মতোই। আর অপেক্ষা করে। দৈর্যের কাঁটা নড়ে না।

    কেনই বা নড়বে? নিশুতি রাতে যে-দেশে এসে পৌছেছে সে-দেশে এখন অন্ধকারে ঢাকা থাকলেও সে জানে যে, তাতে শস্য নেই। বিরান মাঠ, সর-ভাঙ্গা পাড় আর বন্যা-ভাসানো ক্ষেত। নদীগহবরেও জমি কম নেই।

    সত্যি শস্য নেই। যা আছে তা যৎসামান্য। শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি। ভোর বেলায় এত মক্তবে আর্তনাদ ওঠে যে, মনে হয় এটা খোদাতা’লার বিশেষ দেশ। ন্যাংটা ছেলেও আমসিপাড়া পড়ে, গলা ফাটিয়ে মৌলবির বয়স্ক গলাকে ডুবিয়ে সমন্বরে চেঁচিয়ে পড়ে। গোঁফ উঠতে না উঠতেই কোরান হেফজ করা সারা। সঙ্গে সঙ্গে মুখেও কেমন-একটা ভাব জাগে। হাফেজ তারা। বেহেশতে তাদের স্থান নির্দিষ্ট।

    কিন্তু দেশটা কেমন মরার দেশ। শস্যশূন্য। শস্য যা-বা হয় তা জনবহুলতার তুলনায় যৎসামান্য। সেই হচ্ছে মুশকিল। এবং তাই খোদার পথে ঘনিষ্ঠ হয়ে আসার চেতনায় যেমন একটা বিশিষ্ট ভাব ফুটে ওঠে, তেমনি না খেতে পেয়ে চোখে আবার কেমন-একটা ভাব জাগে। শীর্ণদেহ নরম হয়ে ওঠে, আর স্বাভাবিক সরুগলা কেরাতে সময় মধু ছাড়ালেও এদিকে দীনতায় আর অসহায়তায় ক্ষীণতর হয়ে ওঠে। তাতে দিন-কে-দিন ব্যথা-বেদনা আঁকিবুকি কাটে। শীর্ণ চিবুকের আশে-পাশে যে-কটা ফিকে দাড়ি অসংযত দৌর্বল্যে ঝুলে থাকে তাতে মাহাত্ম্য ফোটাতে চায়, কিন্তু ক্ষুধার্ত চোখের তলে চামড়াটে চোয়ালের দীনতা ঘোচে না। কেউ কেউ আর আশা নিয়ে আলিয়া মাদ্রাসায় পড়ে। বিদেশে গিয়ে পোকায় খাওয়া মস্ত মস্ত কেতাব খতম করে। কিন্তু কেতাবে যে বিদ্যে লেখা তা কোনো-এক বিগত যুগে চড়ায় পড়ে আটকে গেছে। চড়া কেটে সে-বিদ্যেকে এত যুগ অতিক্রম করিয়ে বর্তমান স্রোতের সঙ্গে মিশিয়ে দেবে এমন লোক আবার নেই। অতএব, কেতাবগুলোর বিচিত্র অক্ষরগুলো দুরাস্ত কোনো এক অতীতকালের অরণ্যে আর্তনাদ করে। 

    তবু আশা, কত আশা। খোদাতালার ওপর প্রগাঢ় ভরসা। দিন যায় অন্য এক রঙিন কল্পনায়। কিন্তু ক্ষুধার্ত চোখ বৈরীভাবাপন্ন ব্যক্তিসুখ-উদাসীন দুনিয়ার পানে চেয়ে চেয়ে আরও ক্ষয়ে আসে। খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে। মসজিদের বাঁধানো পুকুরপাড়ে চৌকোণ পাথরের খণ্ডটার ওপর বসে শীতল পানিতে অজু বানায়, টুপিটা খুলে তার গহ্বরে ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করে আবার পরে। কিন্তু শান্তি পায় না। মন থেকে থেকে খাবি খায়, দিগন্তে ঝলসানো রোদের পানে চেয়ে চোখ পুড়ে যায়।

    এরা তাই দেশ ত্যাগ করে। ত্যাগ সদলবদলে বেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে। নলি বানিয়ে জাহাজের খালাসি হয়ে ভেসে যায়, কারখানার শ্রমিক হয়, বাসাবাড়ির চাকর, দফতরির এটকিনি, ছাপাখানার ম্যাশিনম্যান, টেনারিতে চামড়ার লোক। কেউ মসজিদে ইমাম হয়, কেউ মোয়াজ্জিন। দেশময় কত সহস্র মসজিদ। কিন্তু শহরের মসজিদ, শহরতলীর মসজিদ-এমন কি গ্রামে গ্রামে মসজিদগুলো পযর্ন্ত আগে থেকে দখল হয়ে আছে। শেষে কেউ কেউ দূরদূরান্তে চলে যায়। হয়ত বাহে-মুলুকে, নয়তো মনিদের দেশে। দূর দূর গ্রামে-যে গ্রামে পৌঁছুতে হলে, কত চড়া-পড়া শুল্ক নদী পেরোতে হয়, মোষের গাড়িতে খড়ের গাদায় ঘুমোতে হয় কত রাত। গারো পাড়াড়ে দুর্গম অঞ্চলে কে কবে বাঁশের মসজিদ হরেছিল-সেখানেও।

    এক সরকারি কর্মচারী সেখানে হয়ত একদিন পায়ে বুট এঁটে শিকারে যান। বাইরে বিদেশি পোশাক, মুখমণ্ডলও মসৃণ। কিন্তু আসলে ভেতরে মুসলমান। কেবল নতুন খোলস পরা নব্য শিক্ষিত মুসলমান।

    সে এই দুর্গম অঞ্চলে মিহি কণ্ঠের আজান শুনে চমকে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে তার শিকারের আশাও কিছু দমে যায়। পরে মৌলবির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে বনবাসে দিন কাটানোর ফলে লোকটার চোখেমুখে নিঃসঙ্গতার বন্য শূন্যতা।

    -আপনার দৌলতখানা? শিকারি বলে। -আপনার নাম? নাম শুনে মৌলবির চোখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তা ছাড়া মুহূর্তে খোদার দুনিয়া চোখের সামনে আলোকিত হয়ে ওঠে!

    শিকারিও পাল্টা প্রশ্ন করে। বাড়ির কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ মৌলবির মনে স্মৃতি জাগে। কিন্তু সংযত হয়ে বলে, এধারের লোকদের মধ্যে খোদাতালার আলোর অভাব। লোকগুলো অশিক্ষিত কাফের। তাই এদের মধ্যে আলো ছড়াতে এসেছে। বলে না যে, দেশে শস্য নেই, দেশে নিরন্তর টানাটানি, মরার খরা।  

    দূর জঙ্গলে বাঘ ডাকে। ক্বচিৎ কখনো হাতিও দাবড়ে কুঁদে নেমে আসে। কিন্তু দিনে পাঁচ-সাতবার দীর্ঘ শালগাছ ছাড়িয়ে একটা ক্ষীণগলা জাগে-মৌলবির গলা। বুনো ভারী হাওয়ায় তার হাল্কা ক-গাছি দাড়ি ওড়ে এবং গভীর রাতে হয়ত চোখের কোণটা চকচক করে ওঠে বাড়ির ভিটেটার জন্যে।

    কিন্তু সেটা শিকারির কল্পনা। আস্তানায় ফিরে এসে বন্দুকের নল সাফ করতে করতে শিকারি কল্পনা করে সে-কথা। তবে নতুন এক আলোর ঝলকে মৌলবির চোখ যে দীপ্ত হয়ে ওঠে সে কথা জানে না; ভাবতেও পারে না হয়ত।

    একদিন শ্রাবণের শেষাশেষি নিরাক পড়েছে। হাওয়াশূন্য স্তব্ধতায়-মাঠপ্রান্তর আর বিস্তৃত ধানক্ষেত নিথর, কোথাও একটু কম্পন নেই। আকাশে মেঘ নেই। তামাটে নীলাভ রং দিগন্ত পযর্ন্ত স্থির হয়ে আছে।

    এমনি দিনে লোকেরা ধানক্ষেত্রে নৌকা নিয়ে বেরোয়। ডিঙ্গিতে দু-দুজন করে, সঙ্গে কোঁচ-জুতি। নিস্পন্দ ধান-ক্ষেতে প্রগাঢ় নিঃশব্দতা। কোথাও একটা কাক আর্তনাদ করে উঠলে মনে হয় আকাশটা বুঝি চটের মতো চিরে গেল। অতি সন্তর্পণে ধানের ফাঁকে ফাঁকে তারা নৌকা চালায়; ঢেউ হয় না, শব্দ হয় না। গলুই-এ মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকে একজন-চোখ ধারালো দৃষ্টি। ধানের ফাঁকে ফাঁকে সাপের সর্পিল সূক্ষ্মগতিতে সে-দৃষ্টি এঁকেবেঁকে চলে।

    বিস্তৃত ধানক্ষেতের এক প্রান্তে তাহের-কাদেরও আছে। তাহের দাঁড়িয়ে সামনে-চোখে তার তেমনি শিকারির সূচাগ্র একাগ্রতা। পেছনে তেমনি মূর্তির মতো বসে কাদের ভাইয়ের ইশারার অপেক্ষায় থাকে। দাঁড় বাইছে, কিন্তু এমন কৌশলে যে, মনে হয় নিচে পানি নয়, তুলো।

    হাঠাৎ তাদের ঈষৎ কেঁপে ওঠে মুহূর্তে শক্ত হয়ে যায়। সামনের পানে চেয়ে থেকেই পেছনে আঙুল দিয়ে ইশারা করে। সামনে, বাঁয়ে। একটু বাঁয়ে ক-টা শিষ নড়ছে-নিরাকপড়া বিস্তৃত ধানক্ষেতে কেমন স্পষ্ট দেখায় সে-নড়া। আরও বাঁয়ে। সাবধান, আস্তে। তাহেরের আঙুল অদ্ভূত ক্ষিপ্রতায় এসব নির্দেশই দেয়। 

    ততক্ষণে সে পাশ থেকে আলগোছে কোঁচটা তুলে নিয়েছে। নিতে একটুও শব্দ হয়নি। হয়নি তার প্রমাণ, ধানের শিষ এখনো ওখানে নড়ছে। তারপর কয়েকটা নিঃশ্বাসরুদ্ধ করা মুহূর্ত। দূরে যে-কটা নৌকা ধান-ক্ষেতের ফাঁকে ফাঁকে এমনি নিঃশব্দে ভাসছিল, সেগুলো থেমে যায়। লোকরা স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ধনুকের মতো টান-হয়ে-ওঠা তাহেরের কালো দেহটির পানে। তারপর দেখে, হঠাৎ বিদ্যুাৎ চমকের মতো সেই কালো দেহের ঊর্ধ্বাশ কেঁপে উঠল, তীরের মতো বেরিয়ে গেল একটা কোঁচ। সা-ঝাক্।

    একটু পরে একটা বৃহৎ রুই মুখ হা-করে ভেসে ওঠে। আবার নৌকা চলে। ধীরে ধীরে, সন্তর্পণে।

    একসময় ঘুরতে ঘুরতে তাহেরদের নৌকা মতিগঞ্জের সড়কটার কাছে এসে পড়ে। কাদের পেছনে বসে তেমনি নিষ্পলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে তাহেরের পানে তার আঙ্গুলের ইশারার জন্য। হাঠৎ এক সময় দেখে, তাহের সড়কের পানে চেয়ে কী দেখছে, চোখে বিস্ময়ের ভাব। সেও সেদিকে তাকায়। দেখে, মতিগঞ্জের সড়কের ওপরেই একটি অপরিচিত লোক আকাশের পানে হাত তুলে মোনাজাতের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে, শীর্ণ মুখে ক-গাছি দাড়ি, চোখ নিমীলিত। মুহূর্তের পর মুহূর্ত কাটে, লোকটি চেতনা নেই। নিরাকপড়া আকাশ যেন তাকে পাথরের মূর্তিতে বূপান্তরিত করেছে।

    কাদের আর তাহের অবাক হয়ে চেয়ে চেয়ে দেখে। মাছকে সতর্ক করে দেবার ভয়ে কথা হয় না, কিন্তু পাশেই একবার ধানের শিষ স্পষ্টভাবে নড়ে ওঠে, ঈষৎ আওয়াজও হয়-সেদিকে দৃষ্টি নেই।

    একসময়ে লোকটি মোনাজাত শেষ করে। কিছুক্ষণ কী ভেবে ঝট করে পাশে নামিয়ে রাখা পুঁটুলিটা তুলে নেয়। তারপর বড় বড় পা ফেলে উত্তর দিকে হাঁটতে থাকে। উত্তর দিকে খানিকটা এগিয়ে মহব্বতনগর গ্রাম। তাদের ও কাদেরের বাড়ি সেখানে। 

    অপরাহ্ণের দিকে মাছ নিয়ে দু-ভাই বাড়ি ফিরে খালেক ব্যাপারীর ঘরে কেমন একটা জটলা। সেখানে গ্রামের লোকেরা আছে, তাদের বাপও আছে। সকলের কেমন গম্ভীর ভাব, সবার মুখ চিন্তায় নত। ভেতরে উঁকি মেরে দেখে, একটু আলগা হয়ে বসে আছে সেই লোকটা-নৌকা থেকে মতিগঞ্জের সড়কের ওপর তখন যাকে মোনাজাত করতে দেখেছিল। রোগা লোক, বয়সের ধারে যেন চোয়াল দুটে উজ্জ্বল। চোখ বুজে আছে। কোটরাগত নিমীলিত সেই চোখে একটুও কম্পন নেই।

    এভাবেই মজিদের প্রবেশ হলো মহব্বতনগর গ্রামে। প্রবেশটা নাটকীয় হয়েছে সন্দেহ নেই, কিন্তু গ্রামের লোকেরা নাটকেরই পক্ষপাতি। সরাসরি মতিগঞ্জের সড়ক দিয়ে যে গ্রামে এসে ঢুকবে তার চেয়ে বেশি পছন্দ হবে তাকে যে বিলটার বড় অশ্বথু গাছ থেকে নে আসবে। মজিদের আগমনটা তেমনি চমকপ্রদ। চমকপ্রদ এই জন্যে যে, তার আগমন, মুহূর্তে সমগ্র গ্রামকে চমকে দেয়। শুধু তাই নয়, গ্রামবাসীর, নির্বুদ্ধিতা সম্পর্কে তাদের সচেতন করে দেয়, অনুশোচনায় জর্জরিত করে দেয় তাদের অন্তর।

    শীর্ণ লোকটি চিৎকার করে গালাগাল করে লোকদের। খালেক ব্যাপারীমাতব্বর রেহান আলি ছিল। জোয়ান মদ্দ কালু মতি, তারও ছিল। কিন্তু লজ্জায় তাদের মাথা হেঁট। নবাগত লোকটির কোটরাগত চোখে আগুন।

    -আপনারা জাহেল, বে-এলেম, আনপাড়হ্। মোদাচ্ছের পিরের মাজারকে আপনারা এমন করি ফেলি রাখছেন?

    গ্রাম থেকে একটু বাইরে একটা বৃহৎ বাঁশঝাড়। মোটাসোটা তার গুঁড়ি। সেই বাঁশঝাড়ের ক-গজ ওধারে একটা পরিত্যক্ত পুকুরের পাশে ঘন সন্নিবিষ্ট হয়ে আছে গাছপালা। যেন একদিন কার বাগান ছিল সেখানে। তারই একধারে টালখাওয়া ভাঙা এক প্রাচীন কবর। ছোট ছোট ইটগুলো বিবর্ণ শ্যাওলায় সবুজ, যুগযুগের হাওয়ায় কালচে। ভেতরে সুড়ঙ্গের মতো। শেয়ালের বাসা হয়ত। ওরা কী করে জানবে যে, ওটা মোদাচ্ছের পিরের মাজার?

    সভায় অশীতিপর বৃদ্ধ সলেমনের বাপও ছিল। হাঁপানির রোগী। সে দম খিঁচে লজ্জায় নত করে রাখে চোখ।

    -আমি ছিলাম গারো পাহাড়ে, মধুপুর গড় থেকে তিন দিনের পথ।

    -মজিদ বলে। বলে যে, সেখানে সুখে শান্তিতেই ছিল। গোলাভরা ধান, গরু-ছাগল। তবে সেখানকার মানুষরা কিন্তু অশিক্ষিত, বর্বর। তাদের মধ্যে কিঞ্চিৎ খোদার আলো ছড়াবার জন্যেই অমন বিদেশ-বিভুঁইয়ে সে বসবাস করছিল। তারা বর্বর হলে কী হবে, দিল তাদের সাচ্চা, খাঁটি সোনার মতো। খোদা-রসুলের ডাক একবার দিলে পৌঁছে দিতে পারলে তারা বেচাইন হয়ে যায়। তা ছাড়া তাদের খাতির-যত্ন ও স্নেহ-মমতার মধ্যে বেশ দিন কাটছিল; কিন্তু সে একদিন স্বপ্ন দেখে। সে-স্বপ্নই তাকে নিয়ে এসেছে এত দূরে। মধুপুর গড় থেকে তিন দিনের পথ সে দুর্গম অঞ্চলে মজিদ যে বাড়ি গড়ে তুলেছিল তা নিমেষের মধ্যে ভেঙ্গে ছুটে চলে এসেছে।

    লোকেরা ইতিমধ্যে বার-কয়েক শুনেছে সে-কথা, তবু আবার উৎকর্ণ হয়ে ওঠে।

    -উনি একদিন স্বপ্নে ডাকি বললেন---

    বলতে বলতে মজিদের কোটরাগত ক্ষুদ্র চোখ দুটো পানিতে ছাপিয়ে ওঠে।

   গ্রামের লোকগুলি ইদানীং অবস্থাপন্ন হয়ে উঠেছে। জোতজমি করেছে, বাড়ি-ঘর করে গরুছাগল আর মেয়েমানুষ পুষে চড়াই-উতরাই ভাব ছেড়ে ধীরস্থির হয়ে উঠেছে, মুখে চিকনাই হয়েছে। কিন্তু খোদার দিকে তাদের নজর কম। এখানে ধানক্ষেতে হাওয়া গান তোলে বটে কিন্তু মুসল্লিদের গলা আকাশে ভাসে না। গ্রামের প্রান্তে সেই জঙ্গলের মধ্যে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বুকে ঝোলানো তামার দাঁত-খিলাল দিয়ে দাঁতের গহবর খোঁচাতে খোঁচাতে মজিদ সেদিন সে-কথা স্পষ্ট বুঝেছিল। সঙ্গে সঙ্গে একথাও বুঝেছিল যে, দুনিয়ায় সচ্ছলভাবে দু-বেলা খেয়ে বাঁচবার জন্যে যে-খেলা খেলতে যাচ্ছে সে-খেলা সাংঘাতিক। মনে সন্দেহ ছিল, ভয়ও ছিল। কিন্তু জমায়েতের আধোবদন চেহারা দেখে পরিস্কার হয়ে গিয়েছিল অন্তর। হাঁপানি-রোগগ্রস্ত অশীতিপর বৃদ্ধের চোখের পানে চেয়েও তাতে লজ্জা ছাড়া কিছু দেখেনি।

    জঙ্গল সাফ হয়ে গেল। ইট-সুরকি নিয়ে সেই প্রাচীন কবর সদ্যমৃত কোনো মানুষের কবরের মতো নতুন দেহ ধারণ করল। ঝালরওয়ালা সালু দ্বারা আবৃত হলো মাছের পিঠের মতো সে কবর। আগরবাতি গন্ধ ছড়াতে লাগল, মোমবাতি জ্বলতে লাগল রাতদিন। গাছপালায় ঢাকা স্থানটি আগে স্যাঁতসেঁতে ছিল, এখন রোদ পড়ে খটখটে হয়ে উঠল; হাওয়ারও ভ্যাপসা গন্ধ খড়ের মতো শুল্ক হয়ে উঠল।

    এ-গ্রামে সে-গ্রাম থেকে লোকরা আসতে লাগল। তাদের মর্মন্তুদ কান্না, অশ্রূসজল কৃতজ্ঞতা, আশার কথা, ব্যর্থতার কথা-সালুতে আবৃত মাছের পিঠের মতো অজ্ঞাত ব্যক্তির সেই কবরের কোলে ব্যক্ত হতে লাগল দিনের পর দিন। তার সঙ্গে পয়সা-ঝকঝক পয়সা, ঘষা পয়সা, সিকি-দুয়ারি-আধুলি, সাচ্চা টাকা, নকল টাকা ছড়াছড়ি যেতে লাগল।

   ক্রমে ক্রমে মজিদের ঘরবাড়ি উঠল। বাহির ঘর, গোয়াল ঘর, আওলা ঘর। জমি হলো, গৃহস্থালি হলো। নিরাকপড়া শ্রাবণের সেই হাওয়া-শূন্য স্তব্ধ দিনে জীবনের যে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল, মাছের পিঠের মতো সালু কাপড়ে আবৃত নশ্বর জীবনের প্রতীকটির পাশে সে জীবন পদে পদে এগিয়ে চললো। হয়ত সামনের দিকে, হয়ত কোথাও নয়। সে-কথা ভেবে দেখবার লোক সে নয়। বতোর দিনে মগরা-মগরা ধান আসে ঘরে, তাই যথেষ্ট। তথাকথিত মাজারের পানে চেয়ে ক্বচিৎ কখনো সে যে ভাবিত না হয় তা নয়। কিন্তু তারও যে বাঁচবার অধিকার আছে সেই কথাটাই সে সাময়িক চিন্তার মধ্যে প্রধান হয়ে ওঠে। তা ছাড়া গারো পাহাড়ের শ্রমক্লান্ত হাড় বের করা দিনের কথা স্মরণ হলে সে শিউরে ওঠে। ভাবে, খোদার বান্দা সে নির্বোধ ও জীবনের জন্য অন্ধ। তার ভুলভ্রান্তি তিনি মাফ করে দেবেন। তাঁর করুণা অপার, সীমাহীন।

    একদিন মজিদ বিয়েও করে। অনেক দিন থেকে আলি-ঝালি একটি চওড়া বেওয়া মেয়েকে দেখছিল।

    শেষে সেই মেয়েলোকটিই বিবি হয়ে তার ঘরে এল। নাম তার রহিমা। সত্যি সে লম্বা-চাওড়া মানুষ! হাড়-চওড়া মাংসল দেহ। শীঘ্র দেখা গেল, তার শক্তিও কম নয়। বড় বড় হাঁড়ি সে অনায়াসে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তুলে নিয়ে যায়, গোঁয়ার ধামড়া গাইকেও স্বচ্ছন্দে গোয়াল থেকে টেনে বের করে নিয়ে আসে। হাঁটে যখন, মাটিতে আওয়াজ হয়, কথা হয় যখন, মাঠ থেকে শোনা যায় গলা।

    তবে তার শক্তি, তার চওড়া দেহ বাইরের খোলস মাত্র। আসলে সে ঠাণ্ডা, ভীতু মানুষ। দশ কথায় রা নেই, রক্তে রাগ নেই। মজিদের প্রতি তার সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভয়। শীর্ণ মানুষটির পেছনে মাছের পিঠের মতো মাজারটির বৃহৎ ছায়া দেখে।

    ও যখন উঠানে হাঁটে তখন মজিদ চেয়ে চেয়ে দেখে। তারপর মধুর হেসে আস্তে আস্তে মাথা নেড়ে বলে,

    -অমন করি হাঁটতে নাই।

    থমকে গিয়ে রহিমা তার দিকে তাকায়।

    মজিদ বলে,

    -অমন করে হাঁটতে নাই বিবি, মাটি-এ গোস্বা করে।

    এই মাটিতেই তো একদিন ফিরি যাইবা-থেকে আবার বলে, মাটিরে কষ্ট দেওনা গুনাহ।

    এ-কথা আগেও শুনেছে রহিমা। মুরুব্বিরা বলেছে, বাড়ির আত্মীয়রা বলেছে। মজিদের কথার বাইরে সালু কাপড়ে আবৃত মাজারটির কথা স্মরণ হয়।

    মজিদ নীরবে চেয়ে চেয়ে দেখে। দেখে রহিমার চোখে ভয়।

    মধুরভাবে হেসে আবার বলে,

    -অমন করি কখনো হাঁটিও না। কবরে আজাব হইবে।

   শক্তিমত্তা নারীর উজ্জ্বল পরিস্কার চোখে ঘনায়মান ভয়ের ছায়া দেখে মজিদ খুশি হয়। তারপর বাইরে গিয়ে কোরান তেলাওয়াত শুরু হয়।গলা ভালো তার, পড়বার ভঙ্গিও মধুর। একটা চমৎকার সুরে সারা বাড়ি ভরে যায়। যেন হাস্নাহেনার মিস্টি মধুর গন্ধ ছড়ায়।

   কাজ করতে করতে রহিমা থমকে যায়; কান পেতে শোনে। খোদাতা’আলার রহস্যময় দিগন্ত তার অন্তরে যেন বিদ্যুতের মতো থেকে থেকে ঝিলিক দিয়ে ওঠে। একটি অব্যক্ত ভীতিও ঘনিয়ে আসে মনে। সে খোদাকে ভয় পায়, মাজারকে ভয় পায়, স্বামী মজিদকেও ভয় পায়।

   গ্রামের লোকেরা যেন রহিমারই অন্য সংস্করণ। তাগড়া-তাগড়া দেহ-চেনে জমি আর ধান, চেনে পেট। খোদার কথা নেই। স্মরণ করিয়ে দিলে আছে, নচেৎ ভুল মেরে থাকে। জমির জন্যে প্রাণ। সে জমিতে বর্ষণহীন খরার দিনে ফাটল ধরলে তখন কেবল স্মরণ হয় খোদাকে।

    কিন্তু জমি এধারে উর্বর, চারা ছড়িয়েছে কি সোনা ফলবে। মানুষরাও পরিশ্রম করে, জমিও সে শ্রমের সম্মান দেয়। দেয় তো বুক উজাড় করে দেয়।

    মাঠে গিয়ে মানুষ মেঠো হয়ে ওঠে। কখনো ঘরোয়া হিংসা-বিদ্বেষের জন্যে, বা আত্মমর্যাদার ভুয়ো ঝাণ্ডা উঁচিয়ে রাখবার জন্যে তারা জমিকে দাবার ছকের মতো ভাগ করে ফেলে। সে-জমিকেই আবার রক্ত দিয়ে রক্ষা করতে দ্বিধা করে না। হয়ত দুনিয়ার দূষিত আবহাওয়ার মধ্যে তারা বর্বরতার নীচতায় নেমে আসে, কিন্তু যখন জমির গন্ধ নাকে লাগে, মাটির এলো খাবড়া দলাগুলোর পানে চেয়ে আপন রক্তমাংসের কথা স্মরণ হয়, তখন ভুলে যায় সমস্ত হিংসা-বিদ্বেষ। সিপাইর খণ্ডিত ছিন্ন দেহের একতাল অর্থহীন মাংসের মতো জমিও তখন প্রাণের চাইতে বড় হয়ে ওঠে। খাবলা খাবলা রুঠাজমি, ডোবাজমি, কাদাজমি-ফাটলধরা জ্যৈষ্ঠের জমি-সব জমি একান্ত আপন; কোনটার প্রতি অবহেলা নেই। যেমন সুস্থ মুমূর্ষু বা জরাজর্জর আত্মীয় জনের প্রতি দৃষ্টিভেদ থাকে না মানুষের। মাথার ঘাম পায়ে ফেলেই তারা খাটে। হয়ত কাঠফাটা রোদ, হয়ত মুষলধারে বৃষ্টি-তারা পরিশ্রম করে চলে। অগ্রহায়ণের শীত খোলা মাঠে হাড় কাঁপায়, রোদ পানি-খাওয়া মোটা কর্কশ ত্বকের ডাসা লোমগুলো পযর্ন্ত জলো শীতল হাওয়ায় খাড়া হয়ে ওঠে-তবু কোমর পরিমাণ পানিতে ডুবে থাকা মাঠ সাফ করে। সযত্নে, সস্নেহে সাফ করে যত জঞ্জাল। কিন্তু জঞ্জালের আবার শেষ নেই। কার্তিকে পানি সরে এলেও কচুরিপানা জড়িয়ে জড়িয়ে থাকে জমিতে। তখন আবার দল বেঁধে লেগে যায় তারা। ভাগ্যকে ঘষে সাফ করবার উপায় নেই, কিন্তু যে-জমি জীবন সে-জমিকে জঞ্জালমুক্ত করে ফসলের জন্যে তৈরি করে। তার জন্যে অক্লান্ত পরিশ্রমকে ভয় নেই। এদিকে সূর্য ক্রমশ দূরপথ ভ্রমণে বেরোয়, ফিমিয়ে আসে তাপ, মেঘশূন্য আকাশের জমাট ঢালা নীলিমার মধ্যে শুকিয়ে ওঠে দিগন্তবিস্তৃত মাঠ। তখন শুরু হয় আরেক দফা পরিশ্রম। রাত নেই দিন নেই হাল দেয়। তারপর ছড়ায় চারা-ছড়াবার সময় না-তাকায় দিগন্তের পানে, না-স্মরণ করে খোদাকে। এবং খোদাকে স্মরণ করে না বলেই হয়ত চারা ছড়ানো জমি শুকিয়ে কঠিন হতে থাকে।  

০১.  ‘আপনাগো দেশটা বড় জাহেলের দেশ।’-এই বাক্যে ‘জাহেল’ শব্দটির উৎস-ভাষা কোনটি? [ঢাবি ‘খ’ ২০২৫-২৬]

      (ক) ফারসি          (খ) আরবি     (গ) উর্দু      (ঘ) হিন্দি

০১. উত্তর: আরবি 




১। সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ জন্মগ্রহন করেন- চট্রগ্রামে।
২। সৈয়দ ওয়াল্লিউল্লাহর উপন্যাসটি ফরাসি ও ইংরেজী ভাষায় অনুদিত হয়- লালসালু ।
৩। সাংবাদিক হিসেবে- কর্মজীবন শুরু করেন সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ
৪। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন- ১৯৭১ খ্রিষ্ট্রাব্দ।
৫।বাংলাদেশের কথাসাহিত্যকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পথিকৃৎ ছিলেন- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
৬। ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়- ১৯৬৮ সালে।
৭। ‘নয়নচতারা’ গল্পগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়- ১৯৪৬ সালে।
৮।‘লালসালু’ উপন্যাস অনুযায়ী কী না হলে বিদেশে এক পাও চলে না- বদনা।
৯। নোয়াখালি অঞ্চলে শস্যের চেয়ে বেশি- টুপি।
১০। ‘কিন্তু দেশটা কেমন মরার দেশ’ – বলা হয়েছে- শস্যহীন বলে।
১১।মজিদের শারীরিক গড়ন-শীর্ণকায়।
১২। মোদাচ্ছের পীরের কবর আবিষ্কার করায় মজিদ উম্মোচিত হয়েছে- মিথ্যাচার চরিত্রে।
১৩। বিভিন্ন গ্রাম থেকে মহব্বতনগরে মানেুষ আসতে লাগে- মাজারে মানত করতে।
১৪। মজিদ ভয় দেখেছে- রহিমার চোখে।
১৫। দুদু মিঞার মুখে লজ্জার হাসি আসে –কলমা জানে না তাই।
১৬। মজিদের শক্তির মূল উৎস- মাজার।
১৭। মজিদের সঙ্গে গ্রামবাসীর যোগসূত্রকারী চরিত্র হিসেবে সাদৃশ্যপূর্ণ হল- রহিমার্ চরিত্রটি |
১৮। ঢেঙা বুড়োর হাতে মার খেয়ে হাসুনির মা গিয়েছিল- মজিদের বাড়িতে।
১৯। ঝড় এলে হাসুনির মায়ের অভ্যাস ছিল- হৈ চৈ করা।
২০। মজিদ হাসুনির মার কাছ থেকে চেয়েছিল- তামাক।
২১। মহিদ হাসুনির মাকে শাড়ি কিনে দিয়েছিল- বেগুনি রঙ্গের।
২২। মজিদের গড়া মাজারে লোকজনের আসা কমে যায়- অন্য পীরদের আধিপত্য।
২৩।‘পাথর এবার হঠাৎ নড়ে’।– পাথর বলতে বোঝানো হয়েছে- মজিদকে।
২৪। আমেনা বিবি তার স্বামীকে পানিপড়া আনতে বলেছিল – মা হওয়ার আশায়।
২৫। মজিদের মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশটা ছিল- নাটকীয়।
২৬। জমিলা আমাদের সমাজব্যবস্থার যে অসংগতির শিকার- বাল্যবিবাহ।
২৭। খোদার অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাজারে খ্যাংটা বুড়ি নালিশ করেছিল- ছেলের মৃত্যুতে।
২৮।‘লালসালু’ উপন্যাসে যে পাড়ার উৎসবের কথা বর্ণিত আছে-ডোমপাড়া।
২৯। যার বিলাপ শুনে জমিলার মন খারাপ হয়েছিল- খ্যাংটা বুড়ির।
৩০।মজিদের বাড়িতে জিকিরের জন্য যে শিরনি রান্না চলছিল তার তদারকির দায়িত্ব ছিল- রহিমা ও জমিলার |
৩১। জিকির করতে করতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল- আমেনা বিবি।
৩২। এশার নামাজ পড়ে মজিদ মাজারে কিসের আওয়াজ শুনেছিল বলে প্রকাশ করে- সিংহের।
৩৩। মজিদের মুখে থুথু ফেলেছিল- জমিলা।
৩৪। ‘লালসালু’ উপন্যাসে চৌকাঠে বসলে ঘরে কী আসে বলে উল্লেখ্য রয়েছে- বালা।
৩৫। সহজ প্রাণধর্মের উজ্জ্বল প্রতীক -জমিলা।
৩৬। গ্রামবাসীর অন্তর জর্জরিত হয়ে ওঠে - অনুশোচনায়।
৩৭। মজিদের শক্তি প্রতিফলিত হয়- গ্রামবাসীর ওপর।
৩৮। বুড়ো, হাসুনির মাকে বেধড়ক প্রহার করে- ঘরের কথা মজিদকে বলায়।
৩৯। মজিদকে শিকড়গাড়া বৃক্ষ করতে সক্রিয় ছিল- ধর্ম।
৪০। মজিদ মোনাজাতের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিল- মতিগঞ্জের সড়কের ওপর ।
৪১। আমেনা বিবির প্রতি মজিদের যে দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পেয়েছে- লালসা।
৪২। খালেক ব্যাপারীর সামনে বসে কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করে- ধলা মিঞা।
৪৩। শত্রুর আভাস পাওয়া হরিণের চোখের মতোই সতর্ক হয়ে ওঠে – জমিলার চোখ ।
৪৪। ‘লালসালু’ উপন্যাসে মজিদের মুখে জমিলার থুথু নিক্ষেপে প্রকাশ পেয়েছে- ক্রোধ।
৪৫। মজিদ পূর্বে যেখানে বাস করত- গারো পাহাড়ে।
৪৬। মজিদের দুদু মিয়াকে শাসনের মধ্যে নিহিত- আধিপত্য বিস্তার।
৪৭। রহিমার কাছে নিজের মৃত্যু কামনা করে- জমিলা।
৪৮। প্রথম যৌবনে মজিদ যেমন বৌ এর স্বপ্ন দেখতো-জমিলার মতো।
৪৯। ঢেঙ্গা বুড়োর বিচারে মজিদ যে সূরা পাঠ করেছিল- সূরা আন-নূর।
৫০। ‘ বতর’ শব্দের অর্থ- ফসল কাটার উপযুক্ত সময়।
৫১। ‘ওনারে কইবেন, আমার যেন মওত হয়।’ আর্জিটি করেছিল- হাসুনির মা।
৫২। মাঠের ধান নষ্ট হয়ে যায়- শিলা বৃষ্টি হলে।
৫৩। ‘শস্যের চেয়ে টুটি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি’ বলতে বোঝানো হয়েছে- ধর্মীয় গোঁড়ামী।
৫৪। গ্রামের লোকেরা যেন রহিমারই- অন্য সংস্করণ।
৫৫। বিশ্বাসের পাথরে যেন- খোদাই করা চোখ।
৫৬। ঘরের ম্লান আলোয় কবরের সেই অনাবৃত অংশটা - মৃত মানুষের খোলা চোখের মতো দেখায়।
৫৭। আমেনা বিবির বিয়ে হয়েছিল – ১৩ বছর বয়সে।
৫৮। মোনাজাত শেষে মজিদ পা ফেলছিল – উত্তর দিকে।
৫৯। আমেনা বিবি ও রহিমার মধ্যে মিল রয়েছে – নিঃসন্তানের দিকটা।
৬০। ঘুমকাতুরে- জমিলা।
৬১। খালেক ব্যাপারীর মতে আক্কাস দাড়ি রাখেনি- ইংরেজি পড়েছে বলে।
৬২। গ্রামে হিড়িত পড়েছে- মসজিদ স্থাপনের।
৬৩। আমেনা বিবির আনন্দ আর সুখের নিশানা- থোতা মুখের তালগাছ।
৬৪। আওয়ালপুরের পীরের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে- ধর্মব্যবসা।
৬৫।আওয়ালপুরের পীর আছরের সময় যে নামাজ পেয়েছে- জোহর।
৬৬। মজিদ হাসপাতালে গিয়েছিল- সমবেদনা প্রকাশ করতে।
৬৭। আওয়ালপুরের পীরের প্রতি আমেনার প্রকাশ পেয়েছে- অন্ধবিশ্বাস।
৬৮। খালেক ব্যাপারি সঙ্গে ধলা মিয়ার সম্পর্ক ছিল- শ্যালক।
৬৯। ধলা মিয়াকে ব্যাপারী আওয়ালপুরে যেতে বলেছিল- পানিপড়া আনতে।
৭০। ধলা মিয়ার দেবংশি তেঁতুল গাছকে ভয় পাওয়ার মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে - কুসংস্কার বিশ্বাস।
৭১। মজিদ বারবার ধলা মিয়াকে আওয়ালপুরে যেতে বলায় প্রকাশ পেয়েছে- দৃঢ়তা।
৭২। আওয়ালপুরের পীরকে মজিদ আখ্যা দিয়েছে - ইবলিশ।
৭৩। খালেক ব্যাপারী মজিদকে ভায় পায় -ধর্মভীতির কারণে।
৭৪। ‘আমেনা’ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য- নিঃসন্তান।
৭৫। ঢেঙ্গা বুড়োর স্ত্রীর জানাজা পাড়ানোর কথা ছিল- মোল্লা শেখের।
৭৬। “তানি যে খোদার মানুষ” উক্তিটি হল - রহিমার।
৭৭। উঠানোর পথটুকু পাড়ি দিতে আমেনা বিবি পরিপ্রান্ত বোধ করে- অসুস্থাতায়।
৭৮। আমেনা বিবি মজিদের কাছে চড়ে গিয়েছিল- পালকি।
৭৯। আমেনা বিবিকে পালকি থেকে নামিয়ে মজিদ যেতে বলেছিলেন- মাজারে।
৮০। মজিদ বার বার আমেনা বিবির দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছিল- রূপের মোহে।
৮১। মজিদের সামনে খালেক ব্যাপারী অসহায় – ধর্মভীতির কারণে।
৮২। আমেনা বিবি মাজারে পাক শুরু করেছিল- ডান দিক থেকে।
৮৩। রহিমা মাজারে আমেনা বিবির দৃশ্যগুলো দেখেছিল- বেড়ার ফুটো দিয়ে।
৮৪। আমেনা বিবি মাজারের মধ্যে মূর্ছা গিয়েছিল- শারীরিক দুর্বলতায়।
৮৫। খালেক ব্যাপারীর গলায় শিশুর ভাব আসে- সন্দেহে।
৮৬। আমেনা বিবির ক্ষেত্রে প্রজোয্য- স্বামীভীরু।
৮৭। যে গাছ দেখে আমেনা বিবি বুঝত যে স্বামীর বাড়িতে পৌছেছে- তালগাছ।
৮৮।মোদাব্বের মিয়ার ছেলের নাম- আক্কাস।
৮৯। মজিদ আক্কাসকে দমাতে চাওয়ায় তার চরিত্রে উম্মোচিত হয়েছে- শোষণ।
৯০। ‘পুলক’ শব্দের অর্থ- আনন্দ।
৯১।“বেত্তমিজের মতো কথা কইস না” উক্তিটি যার সম্পর্কে করা হয়েছিল- আক্কাস।
৯২।মহব্বতনগর গ্রামের বড় মসজিদ নির্মাণে বারো আনা ব্যয় বহন করতে চেয়েছিল - খালেক ব্যাপারী।
৯৩। মহব্বতনগর গ্রামে মসজিদ নির্মাণে তদারকিতে ছিল- মজিদ।
৯৪। সচ্ছলতায় শিকড়গাড়া বৃক্ষ ছিল- মজিদ।
৯৫। মজিদের যশ, খ্যাতির উৎস –পুরনো কবরটি।
৯৬। মজিদের নিঃসঙ্গবোধের কারণ- নিঃসন্তান হওয়ায়।
৯৭। যার বিলাপে জমিলার মন খারাপ হয়েছিল- খ্যাংটা বুড়ির।
৯৮। রহিমা পোষ্য রাখতে চায়- হাসুনিকে।
৯৯। “মজিদের মনে কিন্তু অন্য কথা ঘোরে” এখানে অন্য কথা বলতে বোঝানো হয়েছে- দ্বিতীয় বিয়ে।
১০০। ‘লালসালু’ উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু- গ্রামীণ জীবন, কুসংস্কার ও গোঁড়ামি


০১. আল মাহমুদ-এর লেখা ‘কাবিলের বোন’ উপন্যাসের বিষয়বস্তু কি? [গুচ্ছ ‘B’(মানবিক) ২০২৫-২৬]

      (ক) প্রেমময় রচনা                      (খ) গ্রামীন জীবনের দুঃখ-দুর্দশা

      (গ) একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের গল্প        (ঘ) কোনটিই নয়

      উত্তর: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের গল্প

০২.  ‘লালসালু’ উপন্যাসে বর্ণিত হাসপাতালের অবস্থান- [বিএসসি ইন নার্সিং:২০২৫-২৬]       

      (ক) মতিগঞ্জ                           (খ) মোহনগঞ্জ       

      (গ) করিমগঞ্জ                          (ঘ) সুনামগঞ্জ

      উত্তর: গ 

আরো জানতে: 

বিএসসি ইন নার্সিং প্রশ্নসমাধান-২০২৬




সোমবার, ৩১ জুলাই, ২০২৩

বাংলা (পদ্যাংশ)

 বাংলা পদ্যাংশের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি



আরো জানতে 

২০২৬-২০২৭ সেশনের বাংলা গদ্যাংশ



প্রতিটি গল্প/প্রবন্ধ/পদ্য এর ক্লাস/ক্লাস টেস্ট  মডেল টেস্ট পরীক্ষা দিতে যোগাযোগ করুন- 01736960513  [সকল বিষয়ে অনলাইন/অফলাইন]


২০২৬-২০২৭ সেশনের বাংলা সিলেবাস

পদ্যাংশ সমূহ:

ক্র নং

কবিতার নাম

লেখক

তথ্য ভান্ডার

০১

সোনার তরী

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

০২

বিদ্রোহী

কাজী নজরুল ইসলাম

 

০৩

বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

 

০৪

ঋতু বর্ণন

আলাওল

 

০৫

পদ্মা

ফররুখ আহমদ

 

০৬

তাহারেই পড়ে মনে

সুফিয়া কামাল

 

০৭

প্রতিদান

জসীমউদ্দীন

 

০৮

আঠারো বছর বয়স

সুকান্ত ভট্টাচার্য

 

০৯

ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯

শামসুর রাহমান

 

১০

সুচেতনা

জীবনানন্দ দাশ

👉কবিতাটি বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া 

১১

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

 

১২

প্রত্যাবর্তনের লজ্জা

আল মাহমুদ

 



বাংলা সাহিত্য

হ্যান্ডনোটবিষয়পরীক্ষা
হ্যান্ডনোট-০১বিগত সালের প্রশ্ন বিশ্লেষণ
লিংক-
 https://forms.gle/QdCM7hMpeoUYbJFp9
মেমোরি টেস্ট
নমুনা (এই ফরমেটে পরীক্ষা হবে) 
হ্যান্ডনোট-০২বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন
অপরিচিতা
হ্যান্ডনোট-০১
হ্যান্ডনোট-০৩
যৌবনের গান
বিলাসী
হ্যান্ডনোট-০২
হ্যান্ডনোট-০৪
অর্ধাঙ্গী
জীবন ও বৃক্ষ
হ্যান্ডনোট-০৩
হ্যান্ডনোট-০৫
গন্তব্য কাবুল
মাসি-পিসি
হ্যান্ডনোট-০৪
হ্যান্ডনোট-০৬
সাহিত্যে খেলা
রেইকোট
হ্যান্ডনোট-০৫
হ্যান্ডনোট-০৭
কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ
নেকলেস
হ্যান্ডনোট-০৬
হ্যান্ডনোট-০৮নাটক: সিরাজউদ্দৌলা
হ্যান্ডনোট-০৭
হ্যান্ডনোট-০৯লালসালুহ্যান্ডনোট-০৮
হ্যান্ডনোট-১০বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ
সোনার তরী
হ্যান্ডনোট-০৯
হ্যান্ডনোট-১১সুচেতনা
তাহারেই পড়ে মনে
হ্যান্ডনোট-১০
হ্যান্ডনোট-১২প্দ্মা
আঠারো বছর বয়স
হ্যান্ডনোট-১১
হ্যান্ডনোট-১৩ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
হ্যান্ডনোট-১২
হ্যান্ডনোট-১৪ঋতু বর্ণন
প্রত্যাবর্তনের লজ্জা
হ্যান্ডনোট-১৩
হ্যান্ডনোট-১৫প্রতিদান
সুচেতনা
হ্যান্ডনোট-১৪                         
হ্যান্ডনোট-১৫  

বাংলা ব্যাকরণ:  প্রতিটি হ্যান্ডনোট এর ক্লাস/ক্লাস টেস্ট  মডেল টেস্ট পরীক্ষা দিতে যোগাযোগ করুন- 01736960513  [সকল বিষয়ে অনলাইন/অফলাইন] 

বাংলা ব্যাকরণ

হ্যান্ডনোটবিষয়পরীক্ষা
হ্যান্ডনোট-০১বিগত সালের প্রশ্ন বিশ্লেষণমেমোরি টেস্ট
হ্যান্ডনোট-০২(i) ভাষা (ii) বাংলা ব্যাকরণ ও এর আলোচ্য বিষয় (iii) ধ্বনিতত্ত্ব (iv) ধ্বনির পরিবর্তনহ্যান্ডনোট-০১
হ্যান্ডনোট-০৩
(i) ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান (ii) সন্ধিহ্যান্ডনোট-০২
হ্যান্ডনোট-০৪
(i) পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দ (ii) দ্বিরুক্ত শব্দ (iii) সংখ্যাবাচক শব্দহ্যান্ডনোট-০৩
হ্যান্ডনোট-০৫
(i) বচন (ii) পদাশ্রিত নির্দেশক (iii) সমাসহ্যান্ডনোট-০৪
হ্যান্ডনোট-০৬
(i) উপসর্গ (ii) ধাতু (iii) কৃৎ-প্রত্যয়ের বিস্তারিত আলোচনা (iv) তদ্ধিত প্রত্যয়হ্যান্ডনোট-০৫
হ্যান্ডনোট-০৭
(i) শব্দের শ্রেণিবিভাগ (ii) পদ-প্রকরণ (iii) ক্রিয়াপদহ্যান্ডনোট-০৬
হ্যান্ডনোট-০৮(i) কাল,পুরুষ এবং কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ (ii) সমাপিকা, অসমাপিকা ও যৌগিক ক্রিয়ার প্রয়োগ (iii) বাংলা অনুজ্ঞাহ্যান্ডনোট-০৭
হ্যান্ডনোট-০৯(i) ক্রিয়া-বিভক্তি: সাধু ও চলিত (ii) কারক ও বিভক্তি এবং সম্বন্ধ পদ ও সম্বোধন পদ (iii) অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় শব্দহ্যান্ডনোট-০৮
হ্যান্ডনোট-১০(i) বাক্য প্রকরণ (ii) শব্দের যোগ্যতার বিকাশ ও বাগধারাহ্যান্ডনোট-০৯
হ্যান্ডনোট-১১(i) বাচ্য এবং বাচ্য পরিবর্তন (ii) উক্তি পরিবর্তন (iii) যতি বা ছেদ-চিহ্নের লিখন কৌশলহ্যান্ডনোট-১০
হ্যান্ডনোট-১২(i) বাক্যের শ্রেণিবিভাগ (ii) বাক্যে পদ-সংস্থাপনার ক্রম (iii) এক কথায় প্রকাশহ্যান্ডনোট-১১
হ্যান্ডনোট-১৩(i) পারিভাষিক শব্দ (ii) অনুবাদহ্যান্ডনোট-১২
হ্যান্ডনোট-১৪(i) বানান (ii) উচ্চারণ বিধি (iii) সমার্থক শব্দহ্যান্ডনোট-১৩
হ্যান্ডনোট-১৪

প্রতিটি হ্যান্ডনোট এর ক্লাস/ক্লাস টেস্ট  মডেল টেস্ট পরীক্ষা দিতে যোগাযোগ করুন- 01736960513  [সকল বিষয়ে অনলাইন/অফলাইন]

বাংলা পদ্য অংশের সিলেবাসভুক্ত কবিতা: 

ক্র.নংকবিতাকবিজন্ম-মৃত্যুছন্দপত্রিকায় প্রকাশকাব্য গ্রন্থ
(অন্তগত/
উৎস)
০১বিভীষণের প্রতি মেঘনাদমাইকেল মধুসূদন দত্ত১৮২৪-১৮৭৩খ্রি.অক্ষরবৃত্ত-মেঘনাদবধ কাব্য
(ষষ্ঠ সগ
০২.সোনার তরীরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর১৮৬১-১৯৪১ খ্রি.মাত্রাবৃত্ত ছন্দ-সোনার তরী
০৩.বিদ্রোহীকাজী নজরুর ইসলাম১৮৯৯-১৯৭৬ খ্রি.-অগ্নিবীণা(১৯২২)
০৪.প্রতিদানজসীমউদ্দীন১৯০৩-১৯০৭৬--বালুচর
০৫.সুচেতনাজীবনানন্দ দাশ১৮৯৯-১৯৫৪ খ্রি.---
০৬.তাহারেই পড়ে মনেসুফিয়া কামাল১৯১১-১৯৯৯মাাত্রাবৃত্তমাসিক মোহাম্মদীসোাঁঝের মায়া
০৭.প্দ্মাফররুখ আহমদ----
০৮.আঠারো বছর বয়সসুুকান্ত ভট্টাচার্য১৯২৬-১৯৪৭মাত্রাবৃৃত্তছাড়পত্র
০৯.ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯শামসুর রাহমান১৯২৯-২০০৬গদ্যছন্দনিজ বাসভূমে
১০.আমি কিংবদন্তির কথা বলছিআবু জাফর ওবায়দুল্লাহ১৯৩৪-২০০১গদ্যছন্দ-আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
১১.নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়সৈয়দ শামসুল হক১৯৩৫-২০১৬গদ্যছন্দনূরলদীনের সারাজীবন
১২ছবিআবুু হেনা মোস্তফা কামাল১৯৩৬-১৯৮৯গদ্যছন্দ-আপন যৌবন বৈরী

বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ

🚩  মাত্রাবৃত্ত আসার- আঠারো বছর বয়স, সাম্যবাদী, রক্তে আমার অনাদি অন্থি।

🚩 অক্ষর বৃত্ত- ঐলোসেবিতা এই - ঐকতান - ঐকতান, লোকলোকান্তর, সেই অস্ত্র, বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ, তাহারেই পড়ে মনে, এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে।

🚩  গদ্য ছন্দে আমি ফেনু- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি, ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯, নুরুল দিনের কথা মনে পড়ে যায়। যায়।

🚩  ঊনিশ শতকের আধুনিক বাংলা কবিতার জনক কে- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

🚩 বাংলা ভাষায় প্রথম সার্থক মহাকাব্যের নাম কি- মেঘনাদবধ কাব্য।

🚩 মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবর্তিত ছন্দের নাম কী- অমিত্রাক্ষর ছন্দ।

🚩 বিভীষণের সহোদর কে- রাবণ।

🚩 কবিতায় কমলবনকিসের প্রতীক- ন্যায়ের ও কল্যাণের ।

🚩 কবিতায় কে কাকে রক্ষোমণি বলে সম্বোধন করা হয়েছে- মেঘনাদ
বলে সম্বোধন করা হয়েছে- মেঘনাদ, রাবণকে।

🚩 মাইকেল মধুসূদন দত্ত কত সালে নিজের নামের শুরুতে মাইকেল যোগ করে
নিজের নামের শুরুতে মাইকেল যোগ করে?- ১৯৪৩ সালে ।

🚩 মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা গ্রন্থের নাম কী
প্রকাশিত বাংলা গ্রন্থের নাম কী?- শর্মিষ্ঠা।

🚩 রাবনের মধ্যম সহোদর কে?- কুম্ভকর্ণ ।

🚩 বিভীষণের সহোদর কে?- রাবণ।

🚩  মেঘনাদকে বাসবত্রাস বলার কারণ কী।- বাসবকে পরাজিত করেছে বলে।

🚩 বিভীষণ রাজা বলতে কাকে বুঝিয়েছেন?- রামকে।

🚩 জ্ঞাতি বলতে বোঝায়? সগোত্র।

🚩 বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কাব্যাংশে বিভীষণ কে বিভীষণ কে?- মেঘনাদের সহোদর।

🚩 নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে মেঘনাদ কোন দেবতার পূজা করে যুদ্ধে যাত্রা করে
কোন দেবতার পূজা করে যুদ্ধে যাত্রা করে?- ইষ্টদেবতা বৈশ্বানরের বা অগ্নিদেবের।

🚩 অমিত্রাক্ষার ছন্দের সার্থক প্রয়োগ হয় কোন বাক্যে প্রয়োগ হয় কোন বাক্যে?- তিলোত্তমাসম্ভব বাক্যে।

🚩 বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসন কোনটি কোনটি?- একেই কি বলে সভ্যতা।

🚩 তস্কর শব্দের অর্থ কি?- চোর।

🚩 বাংলা ভাষায় প্রথম সার্থক মহাকাব্য কে রচনা করেন মহাকাব্য কে রচনা করেন?- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

🚩 মধুসূদনের সাহিত্যের মূল সুর হিসাবে কোনটি গ্রহনযোগ্য সুর হিসাবে কোনটি গ্রহনযোগ্য?- দেশপ্রেম।

🚩 পশিল অর্থ কী? প্রবেশ করল। মধুসূদন রচনাবলি: মধুসূদন দত্তকে আধুনিক বাংলা নাটকের জনক বলা হয়। নাটক: শর্মিষ্ঠা, পদ্মাবতী, কৃষ্ণকুমারী, হেক্টর বধ, মায়াকানন, বিষ না ধনুর্গুণ (অসমাপ্ত)। প্রহসন: একেই কি বলে সভ্যতা, বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ। পত্রকাব্য: বীরাঙ্গনা। কাব্যগ্রন্থ: তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১), ব্রজাঙ্গনা, বীরাঙ্গনা, চতুর্দশপদী কবিতাবলী। ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ: ঞযব পধঢ়ঃরাব ষধফরব. কবি-পরিচিতি
আধুনিক বাংলা কবিতার অগ্রদূত মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫এ জানুয়ারি যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম রাজনারায়ণ দত্ত, মাতা জাহ্নবী দেবী। মায়ের তত্ত্বাবধানে গ্রামেই তাঁর তত্ত্বাবধানে গ্রামেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয়। মধুসূদন ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার হিন্দু কলেজে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন। সেখানে ছাত্রাবস্থাতেই তাঁর সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মধুসূদন ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার হিন্দু কলেজে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন। সেখানে ছাত্রাবস্থাতেই তাঁর সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে তিনি পিতৃপ্রদত্ত নামের শুরুতে মাইকেলশব্দ যোগ করেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে তাঁকে হিন্দু কলেজ পরিত্যাগ করে শিবপুরের বিশপ্স কলেজে ভর্তি হতে হয়। সেখানেই তিনি গ্রিক হওয়ার কারণে তাঁকে হিন্দু কলেজ পরিত্যাগ করে শিবপুরের বিশপ্স কলেজে ভর্তি হতে হয়। সেখানেই তিনি গ্রিক, লাতিন ও হিব্রু ভাষা শিক্ষার সুযোগ
পান। মধুসূদন বহু ভাষায় দক্ষ পান। মধুসূদন বহু ভাষায় দক্ষ ছিলেন । ইংরেজি ও সংস্কৃতসহ
ফরাসি, জার্মান এবং ইতালীয় ভাষাতেও তিনি দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। হিন্দু কলেজে ছাত্রাবস্থায় তাঁর সাহিত্যচর্চার মাধ্যম ছিল ইংরেজি ভাষা। কিন্তু বিদেশি ভাষার মোহ থেকে মুক্ত হয়ে তিনি মাতৃভাষার কাছে ফিরে আসেন। মধুসূদন-পূর্ব হাজার বছরের বাংলা কবিতার ছন্দ ছিল পয়ার। একটি চরণের শেষে আর একটি চরণের মিল ছিল ওই ছন্দের অনড় প্রথা। মধুসূদন বাংলা কবিতার এ প্রথাকে ভেঙে দিলেন। দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। হিন্দু কলেজে ছাত্রাবস্থায় তাঁর সাহিত্যচর্চার মাধ্যম ছিল ইংরেজি ভাষা। কিন্তু বিদেশি ভাষার মোহ থেকে মুক্ত হয়ে তিনি মাতৃভাষার কাছে ফিরে আসেন। মধুসূদন-পূর্ব হাজার বছরের বাংলা কবিতার ছন্দ ছিল পয়ার। একটি চরণের শেষে আর একটি চরণের মিল ছিল ওই ছন্দের অনড় প্রথা। মধুসূদন বাংলা কবিতার এ প্রথাকে ভেঙে দিলেন। তাঁর প্রবর্তিত ছন্দকে বলা হয় অমিত্রাক্ষর ছন্দ। তবে এটি বাংলা অক্ষরবৃত্ত ছন্দেরই নবরূপায়ণ। বাংলায় চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেটেরও প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত। বাংলা নাটকের উদ্ভবযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছন্দেরই নবরূপায়ণ। বাংলায় চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেটেরও প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত। বাংলা নাটকের উদ্ভবযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার তিনি। আধুনিক নাটক শর্মিষ্ঠা’, ‘পদ্মাবতীকৃষ্ণকুমারীএবং প্রহসন একেই কি বলে সভ্যতা?’বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁতাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলো হলো : তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’,‘‘মেঘনাদবধ-কাব্য’, ‘ব্রজাঙ্গনা কাব্য’,‘বীরাঙ্গনা কাব্য
কাব্য’, ‘চতুর্দ্দশপদী কবিতাবলি ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯এ জুন কলকাতায় মাইকেল মধুসূদন দত্ত মৃত্যুবরণ করেন।
এতক্ষণে”- অরিন্দম কহিলা বিষাদে-
জানিনু কেমনে আসি লক্ষ্মণ পশিল
রক্ষঃপুরে! হায়, তাত, উচিত কি তব
এ কাজ, নিকষা সতী তোমার জননী,
সহোদর রক্ষঃশ্রেষ্ঠ? শূলিশম্ভুনিভ
কুম্ভকর্ণ? ভ্রাতৃপুত্র বাসববিজয়ী!
নিজগৃহপথ, তাত, দেখাও তস্করে?
ণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে?
কিন্তু নাহি গঞ্জি তোমা, গুরু জন তুমি
পিতৃতুল্য। ছাড় দ্বার, যাব অস্ত্রাগারে,
পাঠাইব রামানুজে শমন-ভবনে,
লঙ্কার কলঙ্ক আজি ভঞ্জিব আহবে।


০১.  অরিকে দমনকরে যে[রাবি ‘A’ (গ্রুপ-২) ২০২৫-২৬]  

      (ক) অরিদম্য                         (খ) অরিন্দম

      (গ) উদ্যমী                            (ঘ) অরিদ্যম

উত্তর: অরিন্দম।

০২.  ‘নিজগৃহপথ, তাত, দেখাও তস্করে?’ এখানে ‘তস্কর’ কে? [গুচ্ছ ‘C’(বাণিজ্য) ২০২০-২১] 

      (ক) রাম                               (খ) লক্ষ্মণ

      (গ) রাবণ                              (ঘ) বিভীষণ

      উত্তর: খ  




উত্তরিলা বিভীষণ, “বৃা এ সাধনা,
ধীমান্! রাঘবদাস আমি; কী প্রকারে
তাঁহার বিপক্ষ কাজ করিব, রক্ষিতে
অনুরোধ?” উত্তরিলা কাতরে রাবণি;-
হে পিতৃব্য, তব বাক্যে ইচ্ছি মরিবারে!
রাঘবের দাস তুমি? কেমনে ও মুখে
আনিলে এ কথা, তাত, কহ তা দাসেরে!
স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থাণুর ললাটে;
পড়ি কি ভূতলে শশী যান গড়াগড়ি
ধূলায়? হে রক্ষোরথি, ভুলিলে কেমনে
কে তুমি? জনম তব কোন মহাকুলে?
কে বা সে অধম রাম? স্বচ্ছ সরোবরে
করে কেলি রাজহংস পঙ্কজ-কাননে;
যায় কি সে কভু, প্রভু, পঙ্কিল সলিলে,
শৈবালদলের ধাম? মৃগেন্দ্র কেশরী,
কবে, হে বীরকেশরী, সম্ভাষে শৃগালে
মিত্রভাবে? অজ্ঞ দাস, বিজ্ঞতম তুমি,
অবিদিত নহে কিছু তোমার চরণে।


ক্ষুদ্রমতি নর, শূর, লক্ষ্মণ; নহিলে
অস্ত্রহীন যোধে কি সে সম্বোধে সংগ্রামে?
কহ, মহারথী, এ কি মহারথীপ্রা?
নাহি শিশু লঙ্কাপুরে, শুনি না হাসিবে
এ কথা! ছাড়হ পথ; আসিব ফিরিয়া
এখনি! দেখিব আজি, কোন্ দেববলে,
বিমুখে সমরে মোরে সৌমিত্রি কুমতি!
দেব-দৈত্য-নর-রণে, স্বচক্ষে দেখেছ,
রক্ষঃশ্রেষ্ঠ, পরাμম দাসের! কী দেখি
ডরিবে এ দাস হেন দুর্বল মানবে?
নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রগল্ভে পশিল
দম্ভী; আজ্ঞা কর দাসে, শাস্তি নরাধমে।


তব জন্মপুরে, তাত, পদার্পণ করে
বনবাসী! হে বিধাতঃ, নন্দন-কাননে
ভ্রমে দুরাচার দৈত্য? প্রফুল্ল কমলে
কীটবাস? কহ তাত, সহিব কেমনে
হেন অপমান আমি,- ভ্রাতৃ-পুত্র তব?
তুমিও, হে রক্ষোমণি, সহিছ কেমনে?”
মহামন্ত্র-বলে যথা নম্ররশিরঃ ফণী,
মলিনবদন লাজে, উত্তরিলা রথী
রাবণ-অনুজ, লক্ষি রাবণ-আত্মজে;
নহি দোষী আমি, বৎস; বৃা ভর্ৎস মোরে
তুমি! নিজ কর্ম-দোষে, হায়, মজাইলা
এ কনক-লঙ্কা রাজা, মজিলা আপনি!
বিরত সতত পাপে দেবকুল; এবে
পাপপূর্ণ লঙ্কাপুরী; প্রলয়ে যেমতি
বসুধা, ডুবিছে লঙ্কা এ কালসলিলে!
রাঘবের পদাশ্রয়ে রক্ষার্থে আশ্রয়ী
তেঁই আমি। পরদোষে কে চাহে মজিতে?”

০১.  ‘রাবণ-অনুজ, লক্ষি রাবণ-আত্মজে’ এখানে ‘লক্ষি’ শব্দটি? [ঢাবি ‘খ’ ২০২৪-২৫]
      (ক) বিশেষ্য  (খ) ক্রিয়া  (গ) বিশেষণ  (ঘ) সর্বনাম



রুষিলা বাসবত্রাস। গম্ভীরে যেমতি
নিশীথে অম্বরে মন্দ্রে জীমূতেন্দ্র কোপি,
কহিলা বীরেন্দ্র বলী,ধর্মপথগামী,
হে রাক্ষসরাজানুজ, বিখ্যাত জগতে
তুমি; কোন্ ধর্ম মতে, কহ দাসে, শুনি,
জ্ঞাতিত্ব, ভ্রাতৃত্ব, জাতি,এ সকলে দিলা
জলাঞ্জলি? শাস্ত্রে বলে, গুণবান্ যদি
পরজন, গুণহীন স্বজন, তথাপি
নির্গুণ স্বজন শ্রেয়ঃ, পরঃ পরঃ সদা!
এ শিক্ষা, হে রক্ষোবর, কোথায় শিখিলে?
কিন্তু বৃা গঞ্জি তোমা! হেন সহবাসে,
হে পিতৃব্য, বর্বরতা কেন না শিখিবে?
গতি যার নীচ সহ, নীচ সে দুর্মতি।
[নির্বাচিত অংশ]
  শব্দার্থ ও টীকা ⛵   বিভীষণ রাবণের কনিষ্ঠ সহোদর। রাম-রাবণের যুদ্ধে স্বপক্ষ ত্যাগকারী। রামের ভক্তি। 👑   এতক্ষণেঅরিন্দম কহিলা রুদ্ধদ্বার নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে লক্ষ্মণের অনুপ্রবেশের অন্যতম কারণ যে পথপ্রদর্শক বিভীষণ লক্ষ্মণের অনুপ্রবেশের অন্যতম কারণ যে পথপ্রদর্শক বিভীষণ, তা অনুধাবন করে বিস্মিত ও বিপন্ন মেঘনাদের প্রতিক্রিয়া

👑   অরিন্দম অরি বা শত্রুকে দমন করে যে। এখানে মেঘনাদকে বোঝানো হয়েছে।          

👑   পশিল প্রবেশ করল।

👑   রক্ষঃপুরে রাক্ষসদের পুরীতে বা নগরে। এখানে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে।

👑   রক্ষঃশ্রেষ্ঠ রাক্ষসকুলের শ্রেষ্ঠ, রাবণ।

👑   তাত পিতা। এখানে পিতৃব্য বা চাচা অর্থে।

👑   নিকষা রাবণের মা।     

👑    শূলীশম্ভুনিভ শূলপাণি মহাদেবের মতো।

👑   কুম্ভকর্ণ রাবণের মধ্যম সহোদর।

👑   বাসববিজয়ী দেবতাদের রাজা ইন্দ্র বা বাসবকে জয় করেছে যে। এখানে মেঘনাদ। একই কারণে মেঘনাদের অপর নাম ইন্দ্রজিৎ।

👑  তস্কর চোর।             👑     গঞ্জি তিরস্কার করি।

👑   রামানুজ রাম+অনুজ = রামানুজ। এখানে রামের অনুজ লক্ষ্মণকে বোঝানো হয়েছে।

👑   শমন-ভবনে যমালয়ে। 👑 ভঞ্জিব আহবে যুদ্ধদ্বারা বিনষ্ট করব।

👑   আহবে যুদ্ধে।            👑 ধীমান্ ধীসম্পন্ন। জ্ঞানী।

👑   রাঘব রঘুবংশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। এখানে রামচন্দ্রকে বোঝানো হয়েছে।

👑   রাঘবদাস রামচন্দ্রের আজ্ঞাবহ।

👑   রাবণি রাবণের পুত্র। এখানে মেঘনাদকে বোঝানো হয়েছে।

👑    স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থাণুর ললাটে - বিধাতা চাঁদকে নিশ্চল আকাশে স্থাপন করেছেন।

👑    বিধু চাঁদ।        👑 স্থাণু নিশ্চল। 

👑    রক্ষোরথী রক্ষকুলের বীর।

👑   রথী রথচালক। রথচালনার মাধ্যমে যুদ্ধ করে যে।

👑   শৈবালদলের ধাম পুকুর। বদ্ধ জলাশয়।       👑 শৈবাল শেওলা।

👑   মৃগেন্দ্র কেশরী কেশরযুক্ত পশুরাজ সিংহ।

👑   মৃগেন্দ্র পশুরাজ সিংহ।

👑   কেশরী কেশরযুক্ত প্রাণী। সিংহ।

👑   মহারথী মহাবীর। শ্রেষ্ঠ বীর।

👑   মহারথীপ্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ বীরদের আচরণ-প্রাপ্ত।

👑   সৌমিত্রি লক্ষ্মণ। সুমিত্রার গর্ভজাত সন্তান বলে লক্ষ্মণের অপর নাম সৌমিত্রি।

👑   নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগার লঙ্কাপুরীতে মেঘনাদের যজ্ঞস্থান। এখানে যজ্ঞ করে মেঘনাদ যুদ্ধে যেত। মেঘনাদবধ-কাব্যেযুদ্ধযাত্রার প্রাক্কালে নিরস্ত্র মেঘনাদ নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ইষ্টদেবতা বৈশ্বানর বা অগ্নিদেবের পূজারত অবস্থায় লক্ষ্মণের হাতে অন্যায় যুদ্ধে নিহত হয়।

👑   প্রগলভে নির্ভীক চিত্তে।                       

👑   দম্ভী দম্ভ করে যে। দাম্ভিক।

👑   নন্দন কানন স্বর্গের উদ্যান।       

👑   মহামন্ত্র-বলে যথা নম্রশিরঃ ফণী মন্ত্রপূত সাপ যেমন মাথা নত করে।

👑   লক্ষি লক্ষ করে।              

👑    ভর্ৎস ভর্ৎসনা বা তিরস্কার করছ।

👑   মজাইলা বিপদগ্রস্ত করলে।       

👑   বসুধা পৃথিবী।

👑   তেঁই তজ্জন্য । সেহেতু।                       

👑    রুষিলা রাগান্বিত হলো।

👑   বাসবত্রাস বাসবের ভয়ের কারণ যে মেঘনাদ।

👑   মন্দ্র শব্দ। ধ্বনি।       

👑   জীমূতেন্দ্র মেঘের ডাক বা আওয়াজ।

👑   বলী বলবান। বীর।                 

👑    জলাঞ্জলি সম্পূর্ণ পরিত্যাগ।

👑   শাস্ত্রে বলে, ...পর

👑   শাস্ত্রে বলে, ... পরঃ সদা! শাস্ত্রমতে গুণহীন হলেও নির্গুণ স্বজনই শ্রেয়, কেননা গুণবান হলেও পর সর্বদা পরই থেকে যায়।           

👑    নীচ হীন। নিকৃষ্ট। ইতর।

👑   দুর্মতি অসৎ বা মন্দ বুদ্ধি।

পাঠ-পরিচিতি বিভীষণের প্রতি মেঘনাদকাব্যাংশটুকু মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ-কাব্যে’-বধো’ (বধ) নামক ষষ্ঠ সর্গ থেকে সংকলিত হয়েছে। সর্বমোট নয়টি সর্গে বিন্যস্ত মেঘনাদবধ-কাব্যের ষষ্ঠ সর্গে লক্ষ্মণের হাতে অন্যায় যুদ্ধে মৃত্যু ঘটে অসমসাহসী বীর মেঘনাদের। রামচন্দ্র কর্তৃক দ্বীপরাজ্য স্বর্ণলঙ্কা আ ষষ্ঠ সর্গে লক্ষ্মণের হাতে অন্যায় যুদ্ধে মৃত্যু ঘটে অসমসাহসী বীর মেঘনাদের। রামচন্দ্র কর্তৃক দ্বীপরাজ্য স্বর্ণলঙ্কা আμান্ত হলে রাজা রাবণ শত্রুর উপর্যুপরি দৈব-কৌশলের কাছে অসহায় হয়ে পড়েন। ভ্রাতা কুম্ভকর্ণ ও পুত্র বীরবাহুর মৃত্যুর পর মেঘনাদকে পিতা রাবণ পরবর্তী দিবসে অনুষ্ঠেয় মহাযুদ্ধের সেনাপতি হিসেবে বরণ করে নেন। যুদ্ধজয় নিশ্চিত
উপর্যুপরি দৈব-কৌশলের কাছে অসহায় হয়ে পড়েন। ভ্রাতা কুম্ভকর্ণ ও পুত্র বীরবাহুর মৃত্যুর
পর মেঘনাদকে পিতা রাবণ পরবর্তী দিবসে অনুষ্ঠেয় মহাযুদ্ধের সেনাপতি হিসেবে বরণ করে নেন।
যুদ্ধজয় নিশ্চিত করার জন্য মেঘনাদ যুদ্ধযাত্রার পূর্বেই নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে
ইষ্টদেবতা অগিড়বদেবের পূজা সম্পন্ন করতে নস্থির করে। মায়া দেবীর আনুকূল্যে এবং রাবণের অনুজ বিভীষণের সহায়তায়, লক্ষ্মণ শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রবেশে সমর্থ হয়। কপট লক্ষ্মণ নিরস্ত্র মেঘনাদের কাছে যুদ্ধ প্রার্থনা করলে মেঘনাদ বিস্ময় প্রকাশ করে। শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে লক্ষ্মণের অনুপ্রবেশ যে মায়াবলে
সমর্থ হয়। কপট লক্ষ্মণ নিরস্ত্র মেঘনাদের কাছে যুদ্ধ প্রার্থনা করলে মেঘনাদ বিস্ময়
প্রকাশ করে। শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে লক্ষ্মণের অনুপ্রবেশ
যে মায়াবলে সম্পন্ন হয়েছে, বুঝতে বিলম্ব ঘটে না তার। ইতোমধ্যে লক্ষ্মণ তলোয়ার কোষমুক্ত করলে মেঘনাদ যুদ্ধসাজ গ্রহণের জন্য সময় প্রাথর্ না করে লক্ষ্মণের কাছে। কিন্তু লক্ষ্মণ তাকে সময় না দিয়ে আ
করলে মেঘনাদ যুদ্ধসাজ গ্রহণের জন্য সময় প্রাথর্ না করে লক্ষ্মণের কাছে। কিন্তু লক্ষ্মণ
তাকে সময় না দিয়ে আμমণ করে। এ সময়ই অকস্মাৎ যজ্ঞাগারের প্রবেশদ্বারের দিকে চোখ পড়ে মেঘনাদের; দেখতে পায় বীরযোদ্ধা পিতৃব্য বিভীষণকে। মুহূর্তে সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যায় তার কাছে। খুল্লতাত বিভীষণকে প্রত্যক্ষ করে দেশপ্রেমিক নিরস্ত্র মেঘনাদ যে
হয়ে যায় তার কাছে। খুল্লতাত বিভীষণকে প্রত্যক্ষ করে দেশপ্রেমিক নিরস্ত্র মেঘনাদ যে পতিক্রিয়া ব্যক্ত করে, সেই নাটকীয় ভাষ্যই বিভীষণের প্রতি মেঘনাদঅংশে সংকলিত হয়েছে। এ অংশে মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা এবং বিশ্বাসঘাতকতা ও দেশদ্রোহিতার বিরুদ্ধে প্রকাশিত হয়েছে ঘৃণা। জ্ঞাতিত্ব
ও দেশদ্রোহিতার বিরুদ্ধে প্রকাশিত হয়েছে ঘৃণা। জ্ঞাতিত্ব, ভ্রাতৃত্ব ও জাতিসত্তার সংহতির গুরুত্বের কথা যেমন এখানে ব্যক্ত হয়েছে তেমনি এর বিরুদ্ধে পরিচালিত ষড়যন্ত্রকে অভিহিত করা হয়েছে নীচতা ও বর্বরতা বলে।
হয়েছে তেমনি এর বিরুদ্ধে পরিচালিত ষড়যন্ত্রকে অভিহিত করা হয়েছে নীচতা ও বর্বরতা বলে। উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাল্মীকি-রামায়ণকে নবমূল্য দান করেছেন এ কাব্যে। মানবকেন্দ্রিকতাই রেনেসাঁস বা নবজাগরণের সারকথা। ওই নবজাগরণের প্রেরণাতেই রামায়ণের রাম-লক্ষ্মণ মধুসূদনের লেখনীতে হীনরূপে এবং রাক্ষসরাজ রাবণ ও তার পুত্র মেঘনাদ যাবতীয় মানবীয় গুণের ধারকরূপে উপস্থাপিত। দেবতাদের আনুকূল্যপ্রাপ্ত রাম-লক্ষ্মণ নয়
মধুসূদন দত্ত বাল্মীকি-রামায়ণকে নবমূল্য দান করেছেন এ কাব্যে। মানবকেন্দ্রিকতাই রেনেসাঁস
বা নবজাগরণের সারকথা। ওই নবজাগরণের প্রেরণাতেই রামায়ণের রাম-লক্ষ্মণ মধুসূদনের লেখনীতে
হীনরূপে এবং রাক্ষসরাজ রাবণ ও তার পুত্র মেঘনাদ যাবতীয় মানবীয় গুণের ধারকরূপে উপস্থাপিত।
দেবতাদের আনুকূল্যপ্রাপ্ত রাম-লক্ষ্মণ নয়, পুরাণের রাক্ষসরাজ
রাবণ ও তার পুত্র মেঘনাদের প্রতিই মধুসূদনের মমতা ও শ্রদ্ধা।   বিভীষণের প্রতি মেঘনাদকাব্যাংশটি ১৪ মাত্রার অমিল প্রবহমান যতিস্বাধীন অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। প্রথম পঙ্ক্তির সঙ্গে দ্বিতীয় পঙ্ক্তির চরণান্তের মিলহীনতার কারণে এ ছন্দ ছন্দে রচিত। প্রথম পঙ্ক্তির সঙ্গে দ্বিতীয় পঙ্ক্তির চরণান্তের মিলহীনতার কারণে এ ছন্দ
অমিত্রাক্ষর ছন্দনামে সমধিক পরিচিত। এ কাব্যাংশের প্রতিটি পঙ্ক্তি ১৪ মাত্রায় এবং ৮ + ৬ মাত্রার দুটি পর্বে বিন্যস্ত। লক্ষ করার বিষয় যে
১৪ মাত্রায় এবং ৮ + ৬ মাত্রার দুটি পর্বে বিন্যস্ত। লক্ষ করার বিষয় যে, এখানে দুই পঙ্ক্তির চরণান্তিক মিলই কেবল পরিহার করা হয়নি, যতিপাত বা বিরামচিহ্নের স্বাধীন ব্যবহারও হয়েছে বিষয় বা বক্তব্যের অর্থের অনুষঙ্গে। এ কারণে ভাবপ্রকাশের প্রবহমানতাও কাব্যাংশটির ছন্দের বিশেষ লক্ষণ হিসেবে বিবেচ্য।
প্রবহমানতাও কাব্যাংশটির ছন্দের বিশেষ লক্ষণ হিসেবে বিবেচ্য।
 

০১. মধুসূদন দত্ত সৌমিত্রবলতে কাকে বুঝিয়েছেন[জাহা: বিশ্ব: ‘C' শিফট-৫ ২০২২-২৩].  
        উত্তর- লক্ষণের স্ত্রী সুমিতাকে। 
০২. বাংলা কাব্যে অমিত্রক্ষর ছন্দের প্রবর্তক কে[চবি ‘B’ ২০১৩-১৪] 
        উত্তর- মাইকেল মধুসূদন দত্ত
০৩. নিজগৃহপথ, তাত, দেখাও তস্করে? এখানে তস্করকে[GST ‘C’ ২০২০-২১] 
        উত্তর: লক্ষণ। 
০৪. ‘হে বিধাতাঃ, নন্দন কাননে.ভ্রমে দুরাচার দৈত্য? প্রফুল্ল কমলে? এখানে ‘দুরাচার’ কে? উত্তর: লক্ষ্মণ।
০৫.   বাংলা সাহিত্যে প্রথম পত্রকাব্য রচয়িতা কে? 
        উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
০৬.  প্রমীলা কার স্ত্রী? উত্তর: মেঘনাদের।
০৭.   বিশ্বাসঘাতকতা ও দেশদ্রোহিতার বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশিত হয়েছে কোন কবিতায়? 
        উত্তর: বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ।
০৮.  ‘মেঘনাদ বধ’ কাব্যের উৎস কী? 
        উত্তর: রামায়ণ।
০৯.   ‘ --- যার নীচসহ, নীচ সে দুর্মতি’- শূন্যস্থানে বসবে- 
        উত্তর: গতি।
১০.   ‘পরদোষে কে চাহে মজিতে?- উক্তিটি কার? 
        উত্তর: বিভীষণের।
১১.   বাসব কে? উত্তর: দেবতাদের রাজা ইন্দ্র।
১২.   বিভীষণ দ্বার ছাড়লে মেঘনাদ কোথায় যাবে বলেছিল? 
        উত্তর: অস্ত্রাগারে।
১৩.  ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশে ‘দুর্মতি’ শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? 
        উত্তর: অসৎ বা মন্দ বুদ্ধি।
১৪.   রাম-রাবণের যুদ্ধে বিভীষণ কোন পক্ষে কাজ করে? 
        উত্তর: রামের পক্ষে।
১৫.   ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় ‘রাবণ-আত্মজ’ বলা হয় কাকে? 
        উত্তর: মেঘনানাদকে।
১৬.   ‘এতক্ষণে-অরিন্দম কহিলা বিষাদে’-এখানে ‘অরিন্দম’ কে? 
        উত্তর: মেঘনাদ।
১৭.   ‘শমন-ভবন’ শব্দটির অর্থ- যমালয়।
১৮.   ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় বিভীষণ কে? 
        উত্তর: রাবণের সহোদর।
১৯.   শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কার সহায়তায় লক্ষ্মণ মেঘনাদের যজ্ঞাগারে প্রবেশ করে? 
        উত্তর: বিভীষণের সহায়তায়।
২০.   ‘মেঘনাদবধ-কাব্যে’ কত দিনের ঘটনা বর্ণিত আছে? 
        উত্তর: তিন দিন ও দুই রাত্রির। 

সোনার তরী [রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ]

গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।
রাশি রাশি ভারা ভারা
ধান কাটা হলো সারা,
ভরা নদী ক্ষুরধারা
খরপরশা-
কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।।
একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা-
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।।
পরপারে দেখি আঁকা
তরুছায়ামসী-মাখা
গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
প্রভাতবেলা-
এপারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা।।
গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে!
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।
ভরা পালে চলে যায়,
কোনো দিকে নাহি চায়,
ঢেউগুলি নিরুপায়
ভাঙে দু ধার-

দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।।

ওগো, তুমি কোথা যাও কোন বিদেশে?

বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে।

যেয়ো যেথা যেতে চাও,

যারে খুশি তারে দাও -

শুধু তুমি নিয়ে যাও

ক্ষণিক হেসে

আমার সোনার ধান কূলেতে এসে।।

যত চাও তত লও তরণী-পরে।

আর আছে- আর নাই, দিয়েছি ভরে।।

এতকাল নদীকূলে

যাহা লয়ে ছিনু ভুলে

সকলি দিলাম তুলে

থরে বিথরে-

এখন আমারে লহো করুণা করে।।

ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই- ছোটো সে তরী

আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।

শ্রাবণগগন ঘিরে

ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে,

শূন্য নদীর তীরে

রহিনু পড়ি-

যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী।। 

০১. আট মাত্রার মাত্রাবৃত্তে রচিত কবিতা কোনটি? [বেরোবি বি২০১৬-১৭]

উত্তর: সোনার তরী

০২.  ‘সোনার তরীকবিতায় বর্ণিত ঘটনাধারা- [ঢাবি ’ ২০২৪-২৫]

    (ক) সকালের (খ) রাতের (গ) বিকালের  (ঘ) সন্ধ্যার   

০৩. বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত রবীন্দ্র রচনা- [ঢাবি ’ ২০২৪-২৫]

    (ক) মুকুট         (খ) বলাকা  (গ) চোখের বালি  (ঘ) ছিন্নপত্র 

০৪.  ‘সোনার তরী’ কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত? [জাবি ‘মানবিক’ ২০২৫-২৬]

      (ক) স্বরবৃত্ত ছন্দ                       (খ) মাত্রাবৃত্ত ছন্দ

      (গ) অক্ষরবৃত্ত ছন্দ                     (ঘ) অমিত্রাক্ষর ছন্দ

      উত্তর: ঘ 

০৫. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘সোনার তরী’ কবিতাটি কোথায় রচনা করেন? [ডিনাসামি & ডিমি :২০২৪-২৫]

      (ক) শিলাইদহ                         (খ) শান্তি নিকেতন

      (গ) জোড়াসাঁকো                       (ঘ) শাহজাদপুর

      উত্তর: ক 



 

প্রতিদান [জসীমউদ্দীন]

প্রকৃত নাম

মোহাম্মদ জসীমউদদীন মোল্লা

ছদ্ম নাম

জমির উদ্দীন মোল্লা

উপাধি

পল্লিকবি

জন্ম সাল

১৯০৩ সালে ১ জানুয়ারি

কাব্যগ্রন্থ

রাখালী, নকশী কাঁথার মাঠ, ধানক্ষেত, এক পয়সার বাঁশি, বালুচর, হাসু, সোজন বাদিয়ার ঘাট, রঙিলা নায়ের মাঝি, রূপবতি, কাফনের মিছিল , মা যে জননী কান্দে, সকিনা, মাটির কান্না।

নাটক

বেদের মেয়ে, গ্রামের মায়া, পল্লীবধূ, মধুমালা, পদ্মাপার।

ভ্রমনকাহিনী

চলে মুসাফির, হলদে পরীর দেশ, যে দেশে মানুষ বড়।

আত্মজীবনী

জীবনকথা, ঠাকুরবাড়ির আঙিনায়, যাঁদের দেখেছি।

সাহিত্য বৈশিষ্ট্য

পল্লির মানুষের আশা-স্বপ্ন-আনন্দ বেদনার আবেগঘন চিত্র ফুটিয়ে তোলা। পল্লিকবি নামে খ্যাত।

পুরস্কার ও সম্মাননা

একুশে পদক, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি লাভ করেন।

মৃত্যু

১৯৭৬ সালের ১৪ই মার্চ ঢাকায়।

আমার ঘর ভাঙিয়াছে যে বা আমি বাঁধি তার ঘর,
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
যে মোরে করিল পথের বিবাগী;
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি;
দীঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হরেছে মোর;
আমার ঘর ভাঙিয়াছে  যে বা আমি বাঁধি তার ঘর।
  
আমার কূল ভাঙ্গিয়াছে যে বা আমি তার কূল বাঁধি;
যে গেছে বুকেতে আঘাত হানিয়া তার লাগি আমি কাঁদি;
যে মোরে দিয়েছে বিষে ভরা বাণ,
আমি দেই তারে বুকভরা গান;
কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম ভর,-
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
  
মোর বুকে যে বা কবর বেঁধেছে আমি তার বুক ভরি
রঙিন ফুলের সোহাগ-জড়ানো ফুল-মালঞ্চ ধরি
যে মুখে সে কহে নিঠুরিয়া বাণী
আমি লয়ে সখি, তারি মুখখানি,
কত ঠাঁই হতে কত কী যে আনি, সাজাই নিরন্তর
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।

০১.  ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি কীসের মাধ্যমে পৃথিবীকে বাসযোগ্য করতে চেয়েছেন? [রাবি ‘A’ (গ্রুপ-১) ২০২৫-২৬]

      (ক) পরার্থপরতা     (খ) বুদ্ধিবৃত্তি      (গ) পরিশ্রম          (ঘ) সুশিক্ষা

উত্তর: ক 

০২.  “আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা, আমি বাঁধি তার ঘর।”- এ পংক্তিতে কী বুঝানো হয়েছে?

       [জাবি ‘মানবিক’ ২০২৫-২৬]

      (ক) আত্মগ্লানি                          (খ) অকৃতজ্ঞতা

      (গ) পরোপকার                        (ঘ) সর্বংসহা মনোভাব

      উত্তর: গ 

০৩.  কবি জসিম উদ্দিন কলেজে পড়াকালে কোন কবিতা লিখে খ্যাতি পান? [ডিনাসামি & ডিমি :২০২৪-২৫]

      (ক) কবর                              (খ) নকশী কাথার মাঠ

      (গ) সোজন বাদিয়ার ঘাট             (ঘ) আসমানী

      উত্তর: ক 

পদ্মা- ফররুখ আহমদ 


০১.  মুসলিম রেনেসাঁর কবি হিসেবে সমাদৃত ছিলেন- [বিএসসি ইন নার্সিং:২০২৫-২৬]
     

      (ক) সৈয়দ শামসুল হক               (খ) আল মাহমুদ

      (গ) ফররুখ আহমদ                   (ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম

      উত্তর: গ 


সুচেতনা [জীবনানন্দ দাশ]

কবি-পরিচিতি
আধুনিক বাংলা কাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জীবনানন্দ দাশ। ১৮৯৯ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি তিনি বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন বরিশাল ব্রজমোহন স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন সেকালের বিখ্যাত কবি। মায়ের কাছ থেকে তিনি কবিতা লেখার প্রেরণা লাভ করেছিলেন। স্বল্প সময়ের জন্য বিভিন্ন পেশা অবলম্বন করলেও মূলত ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবেই তিনি জীবন অতিবাহিত করেন।
কবি জীবনানন্দ দাশ কবিতায় সূক্ষ্ম ও গভীর অনুভবের এক জগৎ তৈরি করেন। বিশেষ করে গ্রামবাংলার নিসর্গের যে ছবি তিনি এঁকেছেন, বাংলা সাহিত্যে তার তুলনা চলে না। সেই নিসর্গের সঙ্গে অনুভব ও বোধের বহুতর মাত্রা যুক্ত হয়ে তাঁর হাতে অনন্যসাধারণ কবিতাশিল্প রচিত হয়েছে। এই অসাধারণ কাব্যবৈশিষ্ট্যকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চিত্ররূপময়বলে আখ্যায়িত করেছেন। এছাড়া ব্যক্তিমানুষের নিঃসঙ্গতা, আধুনিক জীবনের বিচিত্র যন্ত্রণা ও হাহাকার এবং সর্বোপরি জীবন ও জগতের রহস্য ও মাহাত্ম্য সন্ধানে তিনি এক অপ্রতিম কবিভাষা সৃষ্টি করেছেন। বুদ্ধদেব বসু তাঁকে আখ্যায়িত করেছেন নির্জনতম কবিবলে। উপমা, চিত্রকল্প, প্রতীক সৃজন, আলো-আঁধারের ব্যবহার, রঙের ব্যবহার এবং অনুভবের বিচিত্র মাত্রার ব্যবহারে তাঁর কবিতা লাভ করেছে অসাধারণত্ব। তাঁর নিসর্গবিষয়ক কবিতা বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে ও ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সংগ্রামী জনতাকে তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক হিসেবেও বাংলা সাহিত্যে তাঁর বিশেষ স্থান রয়েছে। জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ : ঝরা পালক’, ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’, ‘বনলতা সেন’, ‘মহাপৃথিবী’, ‘বেলা অবেলা কালবেলা’, ‘রূপসী বাংলা কবিতার কথাতাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ এবং মাল্যবানসুতীর্থতাঁর বিখ্যাত দুইটি উপন্যাস ।
জীবনানন্দ দাশ ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ২২এ অক্টোবর কলকাতায় ট্রাম দুর্ঘটনায় আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।


সুচেতনা, তুমি এক দূরতর দ্বীপ
বিকেলের নক্ষত্রের কাছে;
সেইখানে দারুচিনি-বনানীর ফাঁকে
নির্জনতা আছে।
এই পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতা
সত্য; তবু শেষ সত্য নয়।
 
আজকে অনেক রূঢ় রৌদ্রে ঘুরে প্রাণ
পৃথিবীর মানুষকে মানুষের মতো
ভালোবাসা দিতে গিয়ে তবু,
দেখেছি আমারি হাতে হয়ত নিহত
ভাই বোন বন্ধু পরিজন পড়ে আছে;
পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন;
মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে।
সুচেতনা, এই পথে আলো জ্বেলে-এ পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে;
সে অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ;
এ বাতাস কী পরম সূর্যকরোজ্জ্বল;
প্রায় ততদূর ভালো মানব-সমাজ
আমাদের মতো ক্লান্ত ক্লান্তিহীন নাবিকের হাতে
ড়ে দেবো, আজ নয়, ঢের দূর অন্তিম প্রভাতে।
মাটি-পৃথিবীর টানে মানবজন্মের ঘরে কখন এসছে,
না এলেই ভালো হতো অনুভব করে;
এসে যে গভীরতর লাভ হলো সে-সব বুঝেছি
শিশির শরীর ছুঁয়ে সমুজ্জ্বল ভোরে;
দেখেছি যা হলো হবে মানুষের যা হবার নয়-
শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়।
শব্দার্থ ও টীকা
🔭   সুচেতনা- সুচেতনা নামে এক শুভ চেতনার কথাই এখানে বোঝানো হয়েছে। কবির কল্পনায় দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন এই চেতনার সবুজে বিরাজ করছে নির্জনতা। অর্থাৎ এই শুভ চেতনা সর্বত্র বিস্তারিত, বিরাজমান নয়।

🔭    এই পৃথিবীর .... সত্য নয়- সভ্যতার বিকাশের পাশাপাশি বহু যুদ্ধ-রক্তপাত-প্রাণহানী সংঘটিত হয়েছে এবং এখানো হচ্ছে। তবে এই ধ্বংসাত্মক দিকটিই পৃথিবীর শেষ সত্য নয়।

🔭    আজকে অনেক... পরিজন পড়ে আছে- প্রেম, সত্য ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েও পৃথিবীতে অগণিত প্রাণহাণি, রক্তপাতের ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ অনেক রক্তাক্ত পথ পাড়ি দিয়েই পৌঁছাতে হয় ভালোবাসার পরিণামে।

🔭    এই পথে আলো ..... ক্রমমুক্তি হবে- পৃথিবীব্যাপ্ত গভীর অসুখ বা বিপর্যয় থেকে মুক্তির পথই শুভ চেতনা। ইতিবাচক এ চেতনার আলো প্রজ্বলনের মাধ্যমেই সকল বিপর্যয় থেকে পৃথিবী ও মানুষের মুক্তি ঘটবে।

🔭    মাট-পৃথিবীর টানে ... সে-সব বুঝেছি- ব্যক্তিক ও সামষ্টিক সংকট প্রত্যক্ষ করে পৃথিবীতে মানবরূপে জন্ম না নেওয়াকে আপাতভাবে কাঙিক্ষত মনে হলেও এই পৃথিবী ও শুভ চেতনা থেকে প্রাপ্তিই শেখাবধি আমাদের গভীরভাবে প্রাণিত ও ঋণী করে।

🔭    শাশ্বত রাত্রির .... অনন্ত সুর্য়োদয়- পৃথিবীব্যাপ্ত অন্ধকার বা অশুভের অন্তরালেই আছে সূর্যোদয়, মুক্তির দিশা। সুচেতনার বিকাশেই এই আলোকজ্জ্বোল পৃথিবীর দেখা মিলবে, এটিই কবির বিশ্বাস।


পাঠ-পরিচিতি:
      ‘সুচেতনাকবিতাটি জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন’ (১৯৪২) কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। সুচেতনাজীবনানন্দ দাশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা। এ কবিতায় সুচেতনার সম্বোধনে কবি তাঁর প্রার্থিত, আরাধ্য এক চেতনানিহিত বিশ্বাসকে শিল্পিত করেছেন। কবির বিশ্বাসমতে, সুচেতনা এই সত্তা বর্তমান পৃথিবীর গভীরতর ব্যাধিকে অতিক্রম করে সুস্থ ইহলৌকিক পৃথিবীর মানুষকে জীবন্ময় করে রাখে। জীবন্মুক্তির এই চেতনাগত সত্যই পৃথিবীর ক্রমমুক্তির আলোকে প্রজ্বলিত রাখবে, মানবসমাজের অগ্রযাত্রাকে নিশ্চিত করবে। শাশ্বত রাত্রির বুকে অনন্ত সূর্যোদয়কে প্রকাশ করবে। 

০১. ‘সুচেতনা’ কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
       উত্তর: বনলতা সেন (১৯৪২)। 

০২. ‘সুচেতনা’ কবিতাটি জীবনান্দ দাশের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া?  

[ডিনাসামি & ডিমি :২০২৪-২৫]

      (ক) বনলতা সেন                      (খ) শেষের কবিতা

      (গ) বেলা অবেলা কালবেলা          (ঘ) আসমানী

      উত্তর: ক 


বিদ্রোহী-কাজী নজরুল ইসলাম

বল বীর-
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি আমারি, নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
আমি চিরদুর্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস, মহা প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর,
আমি দুর্বার,
আমি ভেঙে করি সব চুরমার!
আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি দলে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল!
আমি মানি না কো কোন আইন,
আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো,
আমি ভীম ভাসমান মাইন।
আমি ধূর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল- বৈশাখীর
আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ব বিধাতৃর!
বল বীর চির-
উন্নত মম শির!
আমি সৃষ্টি, আমি ধ্বংস, আমি লোকালয়, আমি শ্মশান,
আমি অবসান, নিশাবসান।
আমি ইন্দ্রণী- সুত হাতে চাঁদ ভালে সূর্য
মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ- তূর্য,
আমি বেদুঈন, আমি চেলিস, আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ!
আমি বজ্র, আমি ঈশান বিষাণে ওঙ্কার,
আমি ইস্রাফিদের শিঙ্গার মহা হুঙ্কার,
আমি পিণাক-পাণির ডমরু ত্রিশূল, ধর্মরাজের দন্ড,
আমি চক্র ও মহা শঙ্খ, আমি প্রণব নাদ প্রচন্ড !
আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র শিষ্য,
আমি দাবানল দাহ, দাহন করিব বিশ্ব।
আমি উন্মন মন উদাসীর,
আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন- শ্বাস, হা হুতাশ আমি হুতাশীর।
আমি বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির গৃহহারা যত পথিকের,
আমি অবমানিতের মরম বেদনা, বিষ জ্বালা, প্রিয় লাঞ্ছিত
বুকে গতি ফের
আমি উত্তর- বায়ু মলয়- অনিল উদাস পুরবী হাওয়া,
আমি পথিক- কবির গভীর রাগিণী, বেণু বীণে গান গাওয়া।
আমি আকুল নিদাঘ- তিয়াসা, আমি রৌদ্র- রুদ্ধ রবি
আমি মরু- নির্ঝর যার ঝর, আমি শ্যামলিমা ছায়া ছবি!
আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী,
মহা- সিন্ধু উতলা ঘুমঘুম
ঘুম চুমু দিয়ে করি নিখিল বিশ্বে নিঝঝুম
মম বাঁশরীর তানে পাশরি
আমি      শ্যামের হাতের বাঁশরী।
আমি      রুষে উঠি যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া,
ভয়ে       সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া!
আমি      বিদ্রোহ-বাহী নিখিল অখিল ব্যাপিয়া!
আমি      পরশুরামের কাঠোর কুঠার
নিঃক্ষত্রিয় করিব, বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার!
আমি      হল বলরাম-স্কন্ধে
আমি      উপাড়ি ফেলিব অধীন বিশ্ব অবহেলে নব সৃষ্টির মহানন্দে।
মহা-      বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি      সেই দিন হব শান্ত,
যবে       উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না-
অত্যাচারীরর খড়গ কৃপাণ ভীম-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি      সেই দিন হব শান্ত।
আমি চির-বিদ্রোহী বীর-
বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির!  [সংক্ষেপিত] 

০১.  ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কোন নাম নেই? [ঢাবি ‘খ’ ২০২৫-২৬]

      (ক) চেঙ্গিস খাঁ      (খ) তোগলক খাঁ    (গ) পরশুরাম   (ঘ) ইস্রাফিল

০১. উত্তর: তোগলক খাঁ

০১. “বিদ্রোহী” কবিতায় কবি নিজেকে কার বাঁশির বলেছেন? 
          [জাহা: বিশ্ব: ‘C' শিফট-৫ ২০২২-২৩].
        উত্তর- অর্ফিয়াসের, শ্যামের। 

০২. বাঁধনহারা কোন ধরনের সাহিত্য কর্ম? [গুচ্ছ ‘B’(মানবিক) ২০২৫-২৬]

      (ক) গল্প          (খ) কবিতা           (গ) নাটক           (ঘ) উপন্যাস

      উত্তর: উপন্যাস 

০৩. ‘আমি সৃষ্টি, আমি ধ্বংস’-এখানে কোন অলঙ্কার ব্যবহৃত হয়েছে? [গুচ্ছ ‘B’(মানবিক) ২০২৫-২৬]

      (ক) উপমা       (খ) বিরোধাবাস     (গ) চিত্রকল্প        (ঘ) অনুপ্রাস

      উত্তর: বিরোধাবাস

০৪. ‘বিদ্রোহী’ কবিতা কোন ছন্দে রচিত? [গুচ্ছ ‘B’(মানবিক) ২০২৫-২৬]

      (ক) অক্ষরবৃত্ত   (খ) স্বরবৃত্ত (গ) মাত্রাবৃত্ত (ঘ) অমিত্রাক্ষর

উত্তর: মাত্রাবৃত্ত   

০৫. বিদ্রোহী কবিতায় ঐতিহাসিক চরিত্র কোনটি?  [ডিনাসামি & ডিমি :২০২৪-২৫]

      (ক) অরফিয়াস                        (খ) নটরাজ

      (গ) চেঙ্গিস                             (ঘ) ইস্রাফিল

      উত্তর: গ

      

তাহারেই পড়ে মনে

কবি-পরিচিতি
সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের বিশিষ্ট মহিলা কবি ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর জন্ম ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দের ২০এ জুন বরিশালে। তাঁর পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়। কবির পিতার নাম সৈয়দ আবদুল বারী এবং মায়ের নাম সাবেরা বেগম। যে সময়ে সুফিয়া কামালের জন্ম তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের কাটাতে হতো গৃহবন্দি জীবন।
স্কুল কলেজে পড়ার কোনো সুযোগ তাদের ছিল না। ওই বিরুদ্ধ পরিবেশে সুফিয়া কামাল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পাননি। পারিবারিক নানা উত্থান পতনের মধ্যে তিনি স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন। তারই মধ্যে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চায় আত্মনিয়োগ করেছেন। পরবর্তীকালে সাহিত্য সাধনা ও নারী আন্দোলনে ব্রতী হয়ে তিনি শুধু কবি হিসেবেই বরণীয় হননি, জননী সম্ভাষণে ভূষিত হয়েছেন। সুফিয়া কামালের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে : সাঁঝের মায়া’, ‘মায়া কাজল’, ‘কেয়ার কাঁটা’, ‘উদাত্ত পৃথিবীইত্যাদি। এছাড়াও তিনি গল্প, ভ্রমণকাহিনি, প্রবন্ধ ও স্মৃতিকথা লিখেছেন। বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, নাসির উদ্দীন স্বর্ণপদকসহ বিভিনড়ব পদকে ভূষিত হয়েছেন তিনি। সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২০এ নভেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।


 
 

হে কবি, নীরব কেন ফাগুন যে এসেছে ধরায়,
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?”
কহিল সে ¯স্নিগ্ধ আঁখি তুলি-
দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি?
বাতাবি নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?
দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?”
এখনো দেখনি তুমি?” কহিলাম, “কেন কবি আজ
এমন উন্মনা তুমি? কোথা তব নব পুষ্পসাজ?”
কহিল সে সুদূরে চাহিয়া-
অলখের পাথার বাহিয়া
তরী তার এসেছে কি? বেজেছে কি আগমনী গান?
ডেকেছে কি সে আমারে? শুনি নাই, রাখি নি সন্ধান।
কহিলাম, “ওগো কবি! রচিয়া লহ না আজও গীতি,
বসন্ত-বন্দনা তব কণ্ঠে শুনি- এ মোর মিনতি।
কহিল সে মৃদু মধু-স্বরে-
নাই হলো, না হোক এবারে-
আমারে গাহিতে গান, বসন্তেরে আনিতে বরিয়া-
রহেনি, সে ভুলেনি তো, এসেছে তা ফাগুনে স্মরিয়া।
কহিলাম : ওগো কবি, অভিমান করেছ কি তাই?
যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃাই।
কহিল সে পরম হেলায়-
বৃা কেন? ফাগুন বেলায়
ফুল কি ফোটেনি শাখে? পুষ্পারতি লভেনি কি ঋতুর রাজন?
মাধবী কুঁড়ির বুকে গন্ধ নাহি? করে নাই অর্ঘ্য বিরচন?”
হোক, তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?”
কহিলাম, “উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?”
কহিল সে কাছে সরে আসি-
কুহেলি উত্তরী তলে মাঘের সনড়ব্যাসী-
গিয়াছে চলিয়া ধীরে পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে
রিক্ত হস্তে! তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোনো মতে।

শব্দার্থ ও টীকা
    হে কবি - কবিভক্ত এখানে কবিকে সম্বোধন করেছেন।

    নীরব কেন - উদাসীন হয়ে আছেন কেন? কেন কাব্য ও গান রচনায় সক্রিয় হচ্ছেন না।

    ফাগুন যে এসেছে ধরায় - পৃথিবীতে ফাল্গুন অর্থাৎ বসন্তের আবির্ভাব ঘটেছে।

    তব বন্দনায় - তোমার রচিত বন্দনা-গানের সাহায্যে। অর্থাৎ বন্দনা-গান রচনা করে বসন্তকে কি তুমি বরণ করে নেবে না?

    দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি? - কবির জিজ্ঞাসা- বসন্তের দখিনা বাতাস বইতে শুরু করেছে কি না। উদাসীন কবি যে তা লক্ষ করেননি তার এই জিজ্ঞাসা থেকে তা স্পষ্ট হয়। বাতাবি নেবুর ফুল...

    অধীর আকুল - বসন্তের আগমনে বাতাবি লেবুর ফুল ও আমের মুকুলের গন্ধে দখিনা বাতাস দিগি¦দিক সুগন্ধে ভরে তোলে। কিন্তু উন্মনা কবি এসব কিছুই লক্ষ করেননি। কবির জিজ্ঞাসা তাঁর উদাসীনতাকেই স্পষ্ট করে।

    এখনো দেখনি তুমি? - কবিভক্তের এ কথায় আমরা নিশ্চিত হই প্রকৃতিতে বসন্তের সব লক্ষণ মূর্ত হয়ে উঠেছে। অথচ কবি তা লক্ষ করছেন না।

    কোথা তব নব পুষ্পসাজ - বসন্ত এসেছে অথচ কবি নতুন ফুলে ঘর সাজাননি। নিজেও ফুলের অলংকারে সাজেননি।

    অলখ - অলক্ষ। দৃষ্টি অগোচরে।

    পাথার - সমুদ্র।

    বসন্তেরে আনিতে...ফাগুন স্মরিয়া কবি বন্দনা-গান রচনা করে বসন্তকে বর্ণনা করলেও বসন্ত অপেক্ষা করেনি। ফাল্গুন আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিতে বসন্ত এসেছে। 

    করিলে বৃাই - ব্যর্থ করলে। অর্থাৎ কবি-ভক্তের অনুযোগ-বসন্তকে কবি বরণ না করায় বসন্তের আবেদন গুরুত্ব হারিয়েছে।

    পুষ্পারতি - ফুলেল বন্দনা বা নিবেদন।

    পুষ্পারতি লভে নি কি ঋতুর রাজন? - ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ ও বন্দনা করার জন্য গাছে গাছে ফুল ফোটেনি? অর্থাৎ বসন্তকে সাদর অভ্যর্থনা জানানোর জন্যেই যেন ফুল ফোটে।

    মাধবী - বাসন্তী লতা বা তার ফুল।

    অর্ঘ্য বিরচন - অঞ্জলি বা উপহার রচনা। প্রকৃতি বিচিত্র সাজে সজ্জিত হয়ে ফুল ও তার সৌরভ উপহার দিয়ে বসন্তকে বরণ করে।

    উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা - কবিভক্ত বুঝতে পারছেন না, কবি যথারীতি সানন্দে বসন্ত বন্দনা না করে তার দিকে মুখ ফিরিয়ে রয়েছেন কেন।

    কুহেলি - কুয়াশা।         

     উত্তরী - চাদর। উত্তরীয়।

    কুহেলি উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী - কবি শীতকে মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন। যে সন্ন্যাসী কুয়াশার চাদর পরিধান করে আছে।

    পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে - শীত প্রকৃতিতে দেয় রিক্ততার রূপ। গাছের পাতা যায় ঝরে। গাছ হয় ফুলহীন। শীতের এ রূপকে বসন্তের বিপরীতে স্থাপন করা হয়েছে। প্রকৃতি বসন্তের আগমনে ফুলের সাজে সাজলেও কবির মন জুড়ে আছে শীতের রিক্ততার ছবি। শীত যেন সর্বরিক্ত সন্ন্যাসীর মতো কুয়াশার চাদর গায়ে পত্রপুষ্পহীন দিগন্তের পথে চলে গেছে।

    তাহারেই পড়ে মনে - প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও কবির মন জুড়ে আছে শীতের রিক্ত ও বিষণ্ন ছবি। কবির মন দুঃখ ভারাক্রান্ত। তার কণ্ঠ নীরব। শীতের করুণ বিদায়কে তিনি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। তাই বসন্ত তার মনে কোনো সাড়া জাগাতে পারছে না। বসন্তের সৌন্দর্য তার কাছে অর্থহীন, মনে কোনো আবেদন জানাতে পারছে না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তাঁর প্রম স্বামী ও কাব্যসাধনার প্রেরণা-পুরুষের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির অন্তরে যে বিষণ্নতা জাগে তারই সুস্পষ্ট প্রভাব ও ইঙ্গিত এ কবিতায় ফুটে উঠেছে।

পাঠ-পরিচিতি
তাহারেই পড়ে মনেকবিতাটি ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে মাসিক মোহাম্মদীপত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এ কবিতায় প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তাৎপর্যময় অভিব্যক্তি পেয়েছে। সাধারণভাবে প্রকৃতির সৌন্দর্য মানবমনের অফুরন্ত আনন্দের উৎস। বসন্ত-প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য যে কবিমনে আনন্দের শিহরণ জাগাবে এবং তিনি তাকে ভাবে ছন্দে সুরে ফুটিয়ে তুলবেন সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু কবিমন যদি কোনো কারণে
শোকাচ্ছন্ন কিংবা বেদনা-ভারাতুর থাকে তবে বসন্ত তার সমস্ত সৌন্দর্য সত্ত্বেও কবির অন্তরকে স্পর্শ করতে পারবে না। এ কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের দুঃখময় ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে। তাঁর সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও উৎসাহদাতা স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে (১৯৩২) কবির জীবনে প্রচ শূন্যতা নেমে আসে। তাঁর ব্যক্তিজীবন ও কাব্যসাধনার ক্ষেত্রে নেমে আসে এক দুঃসহ বিষণড়বতা। কবিমন আচ্ছনড়ব হয়ে যায় রিক্ততার
হাহাকারে। তাহারেই পড়ে মনেকবিতাকে আচ্ছনড়ব করে আছে এই বিষাদময় রিক্ততার সুর। তাই বসন্ত এলেও উদাসীন কবির অন্তর জুড়ে রিক্ত শীতের করুণ বিদায়ের বেদনা। কবিতাটির আরেকটি লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এর নাটকীয়তা। গঠনরীতির দিক থেকে এটি সংলাপনির্ভর রচনা। কবিতার আবেগময় ভাববস্তুর বেদনাঘন বিষণ্নতা সুর এবং সুললিত ছন্দ এতই মাধুর্যমতি যে তা সহজেই পাঠকের অন্তর ছুঁয়ে যায়।

০১. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি কোন গঠনরীতির? [গুচ্ছ ‘B’(মানবিক) ২০২৫-২৬]

      (ক) পদকবিতা  (খ) সংলাপনির্ভর    (গ) নাটকীয়   (ঘ) প্রকৃতিনির্ভর

      উত্তর: সংলাপনির্ভর

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১. উত্তরীশব্দের অর্থ কী?
ক. চাদর        খ. কুয়াশা
গ. সমীর ঘ. উত্তর দিক
২. কহিল সে সিগ্ধ আঁখি তুলি’-চরণটিতে ‘¯স্নিগ্ধ আঁখিবলতে বোঝায়-
ক. মায়াবী দৃষ্টি            খ. কোমল নেত্র
গ. অশ্রুসিক্ত নয়ন          ঘ. উৎসুক চাহনি 

০১. “Song offerings' গ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার পান কে?  
        [জাহা: বিশ্ব: ‘C' শিফট-৫ ২০২২-২৩].
       উত্তর- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
০২. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় ব্যবহৃত ‘পুষ্পারতি’ শব্দটি কভিাগে গঠিত হয়েছে? 
         [ঢাবি ‘ঘ’ ২০১৩-১৪]
        উত্তর- সন্ধিযোগে। 
০৩. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় ‘অলখের পাথার’ বলতে প্রকৃতপক্ষে বোঝানো হয়েছে- [GST ‘A’ 2023-24]  উত্তর: সীমাহীন সমুদ্র। 

পদ্মা  [ফররুখ আহমদ]

০১. ফররুখ আহমদের ‘পদ্মা’ কবিতাটি ‘কাফেলা’ (১৯৮০) নামক কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত এই কাফেলা কাব্যটি কতটি সনেটের সমন্বয়ে রচিত?
উত্তর: সাতটি। 
০২. 


০১. ‘তালাক’ কোন ভাষার শব্দ?  [চবি ‘B’ ২০১৩-১৪]
        উত্তর- ফারসি। 
০৭. ‘বীরবল’ ছন্দনামে কে লিখতেন? [চবি ‘B’ ২০১৩-১৪]
        উত্তর- প্রমথ চৌধুরী। 
০৮. ‘ভানুসিংহ ঠাকুর’ কার ছদ্মনাম? [চবি ‘B’ ২০১৩-১৪]
        উত্তর- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। 

আঠারো বছর বয়স [সুুকান্ত ভট্টাচার্য]

০১. কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যু হয়েছিল কত বছর বয়সে? [চবি ‘B-1’ ২০১৩-১৪]
   উত্তর- একুশ বছর বয়সে। 

০২. কবি সুকান্ত কত বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন?  [ডিনাসামি & ডিমি :২০২৪-২৫]

      (ক) ২১               (খ) ১৯          (গ) ২০       (ঘ) ১৮

      উত্তর: ক 

০৩.  ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটির রচয়িতা- [বিএসসি ইন নার্সিং:২০২৫-২৬]     

      (ক) জীবনানন্দ দাশ                   (খ) সুফিয়া কামাল

      (গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য                  (ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম

      উত্তর: গ 

ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ [শামসুর রাহমান]

কবি-পরিচিতি
শামসুর রাহমান ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৩এ অক্টোবর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদীর পাড়াতলি গ্রামে। তাঁর পিতার নাম মুখলেসুর রহমান চৌধুরী ও মাতার নাম আমেনা খাতুন। তিনি ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার পোগোজ স্কুল থেকে প্রবেশিকা, ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ইন্টারমিডিয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন। ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দৈনিক মর্নিং নিউজ’-এ সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দৈনিক পাকিস্তান’ (পরে দৈনিক বাংলা’) পত্রিকায় যোগদান করেন। ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে সাপ্তাহিক সোনার বাংলাপত্রিকায় কবির প্রম কবিতা প্রকাশিত হয়। আজীবন তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাব্যসাধনায় নিয়োজিত ছিলেন; তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের পক্ষে, ছিলেন সত্য, সুন্দর ও ন্যায়ের পক্ষে। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতাযুদ্ধ ও পরবর্তী সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন তাঁর কবিতাকে করেছে অনন্য
বৈশিষ্ট্যম-িত। নগর জীবনের যন্ত্রণা, একাকিত্ব, পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন ইত্যাদি তাঁর কবিতার লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য।
শামসুর রাহমানের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ : প্রম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’, ‘রৌদ্র করোটিতে’, ‘বিধ্বস্ত নীলিমা’, নিরালোকে দিব্যরথ’, ‘নিজ বাসভূমে’, ‘বন্দি শিবির থেকে’, ‘ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা’, ‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’, ‘বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়ইত্যাদি। এছাড়া গল্প-উপন্যাস, শিশু সাহিত্য ও অনুবাদ কর্মেও তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কারসহ অসংখ্য পদক ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
২০০৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে
কেমন নিবিড় হয়ে। কখনো মিছিলে কখনো-বা
একা হেঁটে যেতে যেতে মনে হয়-ফুল নয়, ওরা
শহিদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ, স্মৃতিগন্ধে ভরপুর।
একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং।
এ -রঙের বিপরীত আছে অন্য রং,
যে-রং লাগে না ভালো চোখে, যে-রং সন্ত্রাস আনে
প্রাত্যহিকতায় আমাদের মনে সকাল-সন্ধ্যায়-
এখন সে রঙে ছেয়ে গেছে পথ-ঘাট, সারা দেশ
ঘাতকের অশুভ আস্তানা।
আমি আর আমার মতোই বহু লোক
রাত্রি-দিন ভূলুণ্ঠিত ঘাতকের আস্তানায়, কেউ মরা, আধমরা কেউ,
কেউ বা ভীষণ জেদি, দারুণ বিপ্লবে ফেটে পড়া। চতুর্দিকে
মানবিক বাগান, কমলবন হচ্ছে তছনছ।
বুঝি তাই উনিশশো উনসত্তরেও
আবার সালাম নামে রাজপথে, শূন্যে তোলে ফ্ল্যাগ,
বরকত বুক পাতে ঘাতকের থাবার সম্মুখে।
সালামের চোখ আজ আলোচিত ঢাকা,
সালামের মুখ আজ তরুণ শ্যামল পূর্ব বাংলা।
দেখলাম রাজপথে, দেখলাম আমরা সবাই
জনসাধারণ
দেখলাম সালামের হাত থেকে নক্ষত্রের মতো
ঝরে অবিরত অবিনাশী বর্ণমালা
আর বরকত বলে গাঢ় উচ্চারণে
এখনো বীরের রক্তে দুঃখিনী মাতার অশ্রুজলে
ফোটে ফুল বাস্তবের বিশাল চত্বরে
হৃদয়ের হরিৎ উপত্যকায়। সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ,
শিহরিত ক্ষণে ক্ষণে আনন্দের রৌদ্রে আর দুঃখের ছায়ায়। [সংক্ষেপিত]

০১.  কোন শব্দ বা শব্দগুচ্ছ ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় নেই? [ঢাবি ‘খ’ ২০২৫-২৬]

      (ক) ভরপুর           (খ) সন্ত্রাস      (গ) মানবিক বাগান (ঘ) আবাহন

০২.  ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায়; ‘অবিনাশী বর্ণমালা’ কিসের প্রতীক? [গুচ্ছ ‘B’(মানবিক) ২০২৫-২৬]   

        (ক) ধৈর্য্য        (খ) শক্তি             (গ) ভালোবাসা     (ঘ) প্রতিবাদ

   উত্তর: প্রতিবাদ। 

০৩.  ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় বর্ণমালাকে কিসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে? [জাবি ‘মানবিক’ ২০২৫-২৬]

      (ক) নক্ষত্র            (খ) রক্ত        (গ) ফুল      (ঘ) রৌদ্র

      উত্তর: ক 

০৪.  ‘একুশের কৃষ্ণচূড়া’ আমাদের- [জাবি ‘মানবিক’ ২০২৫-২৬]

      (ক) মানবিক বাগান                   (খ) নক্ষত্রের মতো

      (গ) চেতনারই রং                      (ঘ) রক্তের বুদবুদ

      উত্তর: গ 

০১. উত্তর: আবাহন

শব্দার্থ ও টীকা
📘আবার ফুটেছে দ্যাখো ... আমাদের চেতনারই রং - প্রতি বছর শহরের পথে পথে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফোটে। কবির মনে হয় যেন ভাষা-শহিদদের রক্তের বুদ্বুদ কৃষ্ণচূড়া ফুল হয়ে ফুটেছে। তাই একুশের কৃষ্ণচূড়াকে কবি আমাদের চেতনার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে চান। ভাষার জন্য যাঁরা রক্ত দিয়েছেন, জীবন উৎসর্গ করেছেন তাঁদের ত্যাগ আর মহিমা যেন মূর্ত হয়ে ওঠে থরে থরে ফুটে থাকা লাল কৃষ্ণচূড়ার স্তবকে-স্তবকে।

📘    মানবিক বাগান - মানবীয় জগৎ। মনুষ্যত্ব, ন্যায় ও মঙ্গলের জগৎ।

📘    কমলবন - পদ্মবন। কবি মানবিকতা, সুন্দর ও কল্যাণের জগৎ বোঝাতে কমলবন
প্রতীকটি ব্যবহার করেছেন।

📘  বুঝি তাই উনিশশো ... থাবার সম্মুখে। - ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা-আন্দোলনের μমধারায় ছাত্র-অসন্তোষকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলন উনিশশো উনসত্তরে ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। শহর ও গ্রামের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এই আন্দোলনে
অংশগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ছয় দফা ও ছাত্রদের ১১ দফার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন ছিল অপ্রতিরোধ্য। এই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুবরণ করেন আসাদুজ্জামান, মতিউরড. শামসুজ্জোহা প্রমুখ। এ অংশে কবি শোষণ আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ও আত্মাহুতি দেওয়া বীর জনতাকে ভাষা-শহিদ সালাম ও বরকতের প্রতীকে তাৎপর্যময় করে তুলেছেন।
সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ - ফুল বলতে এখানে বাংলা ভাষা বোঝানো হয়েছে।

পাঠ-পরিচিতি
ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯শীর্ষক কবিতাটি কবি শামসুর রাহমানের নিজ বাসভূমেকাব্যগ্রন্থ থেকে চয়ন করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯দেশপ্রেম, গণজাগরণ ও সংগ্রামী চেতনার কবিতা।
১৯৬৯-এ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ববঙ্গে যে গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, কবিতাটি সেই গণজাগরণের পটভূমিতে রচিত। জাতিগত শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে এদেশের সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ১৯৬৯-এ। প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জ, হাটবাজার, কলকারখানা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অসংখ্য মানুষ জড়ো হয় ঢাকার রাজপথে। শামসুর রাহমান বিচিত্র শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রামী চেতনার অসাধারণ এক শিল্পভাষ্য রচনা করেছেন এই কবিতায়।
কবিতাটিতে দেশমাতৃকার প্রতি জনতার বিপুল ভালোবাসা সংবর্ধিত হয়েছে। দেশকে ভালোবেসে মানুষের আত্মদান ও আত্মাহুতির প্রেরণাকে কবি গভীর মমতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে মূর্ত করে তুলেছেন। কবিতাটি একুশের রক্তঝরা দিনগুলোতে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এদেশের সংগ্রামী মানুষের আত্মাহুতির মাহাত্ম্যে প্রগাঢ়তা লাভ করেছে। গদ্যছন্দ ও প্রবহমান ভাষার সুষ্ঠু বিকাশে কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য সংযোজন।
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১. ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯কবিতায় বর্ণমালাকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
    ক. নক্ষত্র         খ. রক্ত        গ. ফুল         ঘ. রৌদ্র
২. আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে চরণটি আমাদের জাতীয়         জীবনের কোন দিকটি তুলে ধরে?
    ক. গণআন্দোলন                 খ. ভাষা আন্দোলন
    গ. স্বাধীনতা আন্দোলন         ঘ. স্বদেশি আন্দোলন
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৩ ও ৪ সংখ্যক প্রশেড়বর উত্তর দাও।
১৯৭১ সালে মাতৃভূমির মুক্তির জন্য অকাতরে জীবন বিসর্জন দেন মতিউর রহমান, মোস্তফা কামালমহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরসহ লক্ষ লক্ষ মানুষ। তাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।
৩. উদ্দীপকের ত্যাগী মানুষদের প্রতিচ্ছবি ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯কবিতায় যাদের নির্দেশ করে তারা হলেন
র. সালাম
রর. বরকত
ররর. দুঃখিনী মাতা
কোনটি ঠিক?
ক. র ও রর খ. র ও ররর
গ. রর ও ররর ঘ. র, রর ও ররর
৪. ওই ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের মূলমন্ত্র কী ছিল?
ক. আদর্শ খ. দেশপ্রেম
গ. বিদ্রোহ ঘ. স্বাধিকার
সৃজনশীল প্রশড়ব
কপালে কব্জিতে লাল সালু বেঁধে
এই মাঠে ছুটে এসেছিল কারখানা থেকে লোহার শ্রমিক,
লাঙল জোয়াল কাঁধে এসেছিল ঝাঁক বেঁধে উলঙ্গ কৃষক
হাতের মুঠোয় মৃত্যু চোখে স্বপড়ব নিয়ে এসেছিল মধ্যবিত্ত,
নি¤ড়ববিত্ত, করুণ কেরানি, নারী, বৃদ্ধ, ভবঘুরে
আর তোমাদের মত শিশু পাতা কুড়ানিরা দল বেঁধে।
ক. শহরের পথে থরে থরে কী ফুটেছে ?
খ. এ-রঙের বিপরীত আছে অন্য রংবলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকটি ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯কবিতার যে সাদৃশ্য নির্দেশ করে তার পরিচয় দাও।
ঘ. উদ্দীপকের বক্তব্য ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯কবিতার খ-াংশ’- যৌক্তিকতা দেখাও।

০১. ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় বর্ণ মালাকে কিসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছ?  [রাবি A Group-2’ ২০২০-২১]
        উত্তর- নক্ষত্র
০২. ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় গণ অভ্যুত্থাানে অংশগ্রহণকারী বীর জনতার বীরত্বে কোন কোন শহিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে? [খুবি ‘B’ ২০১৯-২০]
       উত্তর: সালাম ও বরকত। 
০৩. 

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি [আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ]

০১. ‘কিংবদন্তি’ শব্দের অর্থ- [রাবি A Group-2’ ২০২০-২১]
        উত্তর- জনশ্রুতি।
০২. আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতায় ‘কিংবদন্তি’ কিসের প্রতীক?  [GST ‘A’ 2023-24]
       উত্তর: ঐতিহ্যের। 

০৩. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কত খ্রিষ্টাব্দে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান? [রাবি ‘A’ (গ্রুপ-১) ২০২৫-২৬]

        (ক) ১৯৭৭         (খ) ১৯৭৮               (গ) ১৯৭৯                  (ঘ) ১৯৮০


        উত্তর: গ 

০৪.  ‘কখনো রং কখনো সুর’- কাব্যটি কার লেখা? [গুচ্ছ ‘B’(মানবিক) ২০২৫-২৬]

      (ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ           (খ) জীবানানন্দ দাশ

      (গ) শামসুর রাহমান                    (ঘ) হাসান হাফিজুর রহমান

উত্তর: আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ 

০৫. ‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’ কবিতায় পূর্বপুরুষের করতলে কীসের সৌরভ ছিল? 

[জাবি ‘মানবিক’ ২০২৫-২৬]

      (ক) রজনীগন্ধার                       (খ) রক্তজবার

      (গ) শস্যদানার                         (ঘ) পলিমাটির

      উত্তর: ঘ 

০৬. ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’- কবিতায় কিংবদন্তি শব্দটি কিসের প্রতীক? 

[ডিনাসামি & ডিমি :২০২৪-২৫]

      (ক) ইতিহাস                           (খ) ঐতিহ্য

      (গ) জনশ্রুতি                            (ঘ) মুক্তি সংগ্রাম

      উত্তর: খ 


নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় [সৈয়দ শামসুল হক]

০১. নুরুলদীনের ডাকে কত বঙ্গাব্দে বাংলার মানুষ জেগে উঠেছিল? [GST ‘C’ ২০২০-২১]
    উত্তর: ১১৮৯ বঙ্গাব্দে। 
০২. ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতার পটভূমি কী?  [খুবি ‘B’ ২০১৯-২০]
        উত্তর: কৃষক বিদ্রোহ। 
০৩. 

ছবি [আবুু হেনা মোস্তফা কামাল]

০১. 

০১. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা কোনটি? [জাবি ‘মানবিক’ ২০২৫-২৬]

      (ক) জননী                              (খ) দিবারাত্রির কাব্য

      (গ) চিহ্ন                                (ঘ) সবগুলো

      উত্তর: ঘ 

সোস্যাল সায়েন্স এন্ড হিউম্যানিটিস [হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি), দিনাজপুর]

 সোস্যাল সায়েন্স এন্ড হিউম্যানিটিস [হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি), দিনাজপুর।  সকল গ্রুপের (বিজ্ঞান, ব...

২০২৬-২৭ সেশনের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ননোত্তর